খুলনা

পারিবারিক কলহে যুবদল নেতা খুন, আদালতে স্ত্রীর স্বীকারোক্তি

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩৬ পিএম

খুলনায় পারিবারিক কলহের কারণে নিজের স্বামীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মামাতো ভাই ওবায়দুল্লাহকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন তিনি। পরে তার সহযোগিতায় মামাতো ভাই সাতক্ষীরার তালা থানার ইসলামকাঠি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শামীমকে হত্যা করে।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় খুলনা এসপি অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে এমন বক্তব্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন।

আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিয়ের পর থেকে বৃষ্টি সুখী ছিল না। স্বামী এস এম শামীম প্রায়ই তাকে মারধর করত। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ বৃষ্টি তার স্বামীকে খুন করার পরিকল্পনা করে। শামীমকে হত্যার তিনদিন আগে মামাতো ভাই ওবায়দুল্লাহকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন বৃষ্টি তার মামাতো ভাইকে শারীরিক নির্যাতনের কথা জানায়। এ জন্য স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে বৃষ্টি তার ওবায়দুল্লাহকে বলে। শামীমকে হত্যা করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে সে সম্মতি দেয়।

হত্যাকাণ্ডের দিন রাতের খাবার খেয়ে শামীম ও তার স্ত্রী তৃতীয় তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটে আসে। এর কিছুক্ষণ পর বৃষ্টির মামাতো ভাই ওবায়দুল্লাহ সেখানে আসে। কিভাবে শামীমকে কোপ দিতে হবে তা বৃষ্টি ইশারায় তাকে দেখিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে শামীমের ঘাড়ে কোপ দেয় ওবায়দুল্লাহ। এরপর সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে  মারা যায়। হত্যাকাণ্ডের পর তারা দুইজনই দ্বিতীয়তলায় এসে শামীমের মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে থাকে। পরে তারা আবারও ছাদে যায়। এরপর তারা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি পার্শ্ববর্তী জলাশয়ে ফেলে দেয়।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডটি ক্লুলেস ছিল। তাছাড়া নিহত শামীমের মা রশিদা খাতুন এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একটি চৌকশ দল কাজ করে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। আদালতে শামীমের স্ত্রী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। বৃষ্টির মামাতো ভাইয়ের বয়স কম হওয়ায় তাকে যশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল বাজার সংলগ্ন তিনতলায় নিজ বাড়িতে খুন হন যুবদল নেতা শামীম হোসেন। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে কোপ দিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত শামীম সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত