রেমিট্যান্স বিনিয়োগবান্ধব করতে উদ্যোগী ইউসিবি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০২:০৩ এএম

দেশ রূপান্তর : ইউসিবি বৈধপথে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে?

মামদুদুর রশীদ : দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব অপরিসীম। ইউসিবি শুরু থেকেই এই প্রবাহকে শক্তিশালী করতে সচেষ্ট। আমরা প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করেছি। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গ্রাহকরা যেন যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে নির্বিঘেœ টাকা পাঠাতে পারেন, সেদিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি, বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত করতে আমরা বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছি।

দেশ রূপান্তর : রেমিটারদের জন্য ইউসিবি কী ধরনের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে?

মামদুদুর রশীদ : রেমিটারদের আমাদের প্রতি আস্থাকে সম্মান জানাতে আমরা কয়েকটি বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

* দ্রুত ও স্বচ্ছ ট্র্যাকিং : বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পর প্রাপক যেন দ্রুত তা হাতে পান এবং লেনদেন প্রক্রিয়া সহজে ট্র্যাক করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা আমরা নিশ্চিত করি।

* বিশেষ ছাড় ও প্রণোদনা : নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে রেমিট্যান্সের ওপর আমরা ব্যাংক চার্জে বিশেষ ছাড় দিই।

* লয়্যালটি প্রোগ্রাম : আমাদের নিয়মিত গ্রাহকদের জন্য ইউসিবি প্রিমিয়াম প্রোগ্রামের আওতায় নগদ ছাড় এবং অন্যান্য বিশেষ অফার দেওয়া হয়।

দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা কি অব্যাহত রাখা উচিত?

মামদুদুর রশীদ : নিঃসন্দেহে, রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত রাখা উচিত। এই প্রণোদনা হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের ব্যবহার কমিয়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এতে একদিকে যেমন প্রবাসীরা নিরাপদে ও সহজে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হন, তেমনি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয় এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান বাড়াতে আপনার পরামর্শ কী?

মামদুদুর রশীদ : রেমিট্যান্সের অবদান বাড়াতে বহুমুখী পদক্ষেপ জরুরি। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হলো :

* দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী চ্যানেল : প্রবাসীদের জন্য অর্থ প্রেরণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে হবে।

* বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রণোদনা : রেমিট্যান্সকে কেবল ভোগব্যয়ের পরিবর্তে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা ও বিনিয়োগ স্কিম চালু করা যেতে পারে।

* গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্পৃক্ততা : রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ গ্রামে আসে। তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য রেমিট্যান্সের অর্থ সহজে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ ভোগবিলাসে ব্যয় হয় বলে জানা যায়। এই অর্থ বিনিয়োগে কাজে লাগানোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

মামদুদুর রশীদ : এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রেমিট্যান্সের অর্থকে উৎপাদনশীল খাতে নিয়ে আসতে সরকার, ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। কিছু সম্ভাব্য সমাধান হলো :

* সঞ্চয় ও বিনিয়োগে কর সুবিধা : রেমিট্যান্সের নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করলে করছাড় বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।

* প্রবাসীদের জন্য বিশেষ স্কিম : ব্যাংকগুলোর উচিত প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম, যেমন : ফ্ল্যাট বা জমি কেনায় বিশেষ সুবিধা, বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ ইত্যাদি চালু করা।

* সহজ ঋণ সুবিধা : রেমিট্যান্স পুঁজি করে উদ্যোক্তা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেন সহজে ঋণ পেতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করা দরকার।

দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্স প্রেরক ও গ্রহীতাদের জন্য ইউসিবির বিশেষ কোনো সেবা বা পণ্য আছে কি?

মামদুদুর রশীদ : অবশ্যই। আমাদের দুটি বিশেষ পণ্য রয়েছে ‘ইউসিবি রেমিট্যান্স অ্যাকাউন্ট’ এবং ‘ইউসিবি এক্সপ্রেস’। এই পণ্যগুলোর মাধ্যমে প্রেরক ও প্রাপক উভয়েই বেশ কিছু সুবিধা পান। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত টাকা স্থানান্তর, সর্বনিম্ন চার্জে লেনদেন এবং মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজ লেনদেন।

দেশ রূপান্তর : বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?

মামদুদুর রশীদ : সরকারের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য আরও প্রণোদনা দেওয়া, লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিদেশে বাংলাদেশি ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, অবৈধ চ্যানেল বা হুন্ডি সম্পর্কে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার চালানো প্রয়োজন।

দেশ রূপান্তর : বিদেশে ইউসিবির বেশ কয়েকটি এক্সচেঞ্জ হাউজ আছে। রেমিট্যান্স দেশে আনার ক্ষেত্রে সেগুলো কী ভূমিকা পালন করছে?

মামদুদুর রশীদ : আমাদের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এগুলো প্রবাসীদের জন্য বৈধ ও নিরাপদ চ্যানেল হিসেবে কাজ করে। এই এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো প্রবাসীদের অর্থ দ্রুত ও নিরাপদে দেশে পাঠাতে সাহায্য করে এবং স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করে।

দেশ রূপান্তর : প্রবাসীরা যাতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী হন, সেজন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

মামদুদুর রশীদ : প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে হলে সরকার ও ব্যাংককে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কিছু কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে :

* কর সুবিধা ও প্রণোদনা : রেমিট্যান্স বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কর সুবিধা বা অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনা প্রদান।

* বিনিয়োগ স্কিম : প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও বিনিয়োগ স্কিম চালু করা।

* নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ : দেশে একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা।

* তথ্য ও পরামর্শ সেবা : প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও পরামর্শ সেবা নিশ্চিত করা।

রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড। এই প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করতে ইউসিবি সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বদ্ধপরিকর।

দেশ রূপান্তর : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

মামদুদুর রশীদ : দেশ রূপান্তরকেও ধন্যবাদ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত