দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান বাড়াতে আপনার পরামর্শ কী?
এএনএম মাহফুজ : রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে প্রচার-প্রচারণা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, যাতে গ্রাহকরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।
দেশ রূপান্তর : আপনারা রেমিটারদের কি বিশেষ কোনো সুবিধা দেন?
এএনএম মাহফুজ : ব্যাংক এশিয়া রেমিটারদের বিশেষ বীমা সুবিধা প্রদান করে থাকে। ব্যাংকের যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ও সুবিধাভোগী উভয়ের জন্য এ বীমা সুবিধা রয়েছে।
দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্সে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়, সেটি কি অব্যাহত থাকা উচিত? হলে কেন?
এএনএম মাহফুজ : প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ বাড়াতে ও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বর্তমানে সরকার ঘোষিত ২.৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করা হয়ে থাকে।
রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার ফলে প্রবাসীরা কালোবাজারি বা হুন্ডি থেকে রেমিট্যান্সকে দূরে সরিয়ে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হয়। বৈধপথে আসা এসব রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সাহায্য করে। প্রণোদনা অবৈধ অর্থ পাচার সুবিধা বন্ধ করে এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিতে জমা হতে সাহায্য করে। এই অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখে এবং প্রাপক পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায় বিনিয়োগে সহায়তা করে দারিদ্র্য কমাতে সাহায্য করে। প্রণোদনার মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে তা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখে।
রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা শুরু করার পর বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রদান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সুতরাং গ্রাহকদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা উচিত।
দেশ রূপান্তর : বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে আপনার ব্যাংক কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?
এএনএম মাহফুজ : বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংক এশিয়া গ্রাহকদের জন্য রিয়েল-টাইম রেমিট্যান্স প্রদান নিশ্চিত করে থাকে। প্রত্যন্ত জনপথে এ সেবা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাংক এশিয়া পাঁচ হাজারের বেশি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট পরিচালনা করছে। এছাড়া, এনজিও সেন্টার এবং রিটেইল শপ (যেমন সিঙ্গার বাংলাদেশ)-এর সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে গ্রাহকদের বাড়ির পাশ থেকে রেমিট্যান্স সেবা প্রদান করছে। রেমিট্যান্স সেবা প্রসারিতকরণে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম আয়োজন এবং বিভিন্ন স্থানে গ্রাহক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
দেশ রূপান্তর : রেমিট্যান্সের বেশিরভাগ অর্থ ভোগবিলাসে ব্যয় হয় বলে বিবিএসের এক জরিপে জানা যায়। এই অর্থ বিনিয়োগে কাজে লাগানোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
প্রবাসীদের দেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য আকর্ষণীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগপণ্য প্রণয়ন করে বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : আপনাদের ব্যাংকে রেমিট্যান্স প্রেরক ও গ্রহীতাদের জন্য বিশেষ কোনো সেবাপণ্য চালু আছে?
এএনএম মাহফুজ : রেমিট্যান্স প্রেরক ও গ্রহীতার প্রথম চাওয়াই থাকে রেমিট্যান্সের অর্থ প্রেরণের সঙ্গে সঙ্গে তারা যেন সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে তা হাতে পায়। এর জন্য ব্যাংক এশিয়ার রয়েছে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-সুবিধা। এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম রেমিট্যান্স প্রদান ও তহবিল স্থানান্তর নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া, রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ও সুবিধাভোগী উভয়ের জন্য রয়েছে নগদ প্রণোদনা।
দেশ রূপান্তর : বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়াতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?
এএনএম মাহফুজ : এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হারে এবং স্বল্প খরচে রেমিট্যান্স সেবা প্রদানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। গ্রাহকদের বিভিন্ন বিনিয়োগ সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে গ্রাহকের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : বিদেশে আপনাদের বেশ কিছু এক্সচেঞ্জ হাউজ আছে। রেমিট্যান্স দেশে আনার ক্ষেত্রে সেগুলো কী ধরনের ভূমিকা পালন করছে?
এএনএম মাহফুজ : ব্যাংক এশিয়া এক্সচেঞ্জ হাউজ গ্রাহককে স্বল্প ব্যয়সাপেক্ষ রেমিট্যান্স সেবা প্রদান, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার অফার এবং গ্রাহকদের বিনিয়োগ সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করছে।
দেশ রূপান্তর : প্রবাসীরা যাতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়, সে জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
এএনএম মাহফুজ : স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুযোগ এবং গ্রাহকদের জন্য নির্বিঘ্ন অর্থনৈতিক সেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
