আন্তর্জাতিক সিরিজ খেললে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি আরও ভালো হতো

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩০ এএম

সালমা খাতুন, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের প্রথম তারকা, সাবেক অধিনায়ক। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে নেমেছেন ১৪১ বার। দুই ফরম্যাটেই দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। এবারের বিশ্বকাপ ও নারী ক্রিকেট নিয়ে গত বিশ্বকাপ খেলা এই অলরাউন্ডারের ভাবনা শুনেছেন দেশ রূপান্তরের মুসাহো মুকুল

দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। দলও ঘোষণা হয়েছে। এবারের আসরে দলের কাছে কী প্রত্যাশা করছেন?

সালমা খাতুন : বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে, বিশেষ করে নারী ক্রিকেট নিয়ে আশা-প্রত্যাশা সবারই থাকে, আমারও আছে। সবসময়ই দোয়া করি আমাদের টিম ভালো করুক। আমি দলের সবাইকে একটা কথাই বলতে চাই আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি, তার আগে আমাদের প্রস্তুতিটা যেন সেরা পর্যায়ের হয়। ম্যাচ ধরে ধরে করা পরিকল্পনা যদি আমাদের মেয়েরা মাঠে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে পারে, সেই সঙ্গে মাঠের পারফরম্যানসও যদি ভালো হয় তাহলে এবারের আসরে আমাদের আগের চেয়ে ভালো করার সম্ভাবনা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাদের এখন যে টিমটা আছে এটা বেশ ভালো। আশা করি বিশ্বকাপে ভালো নৈপুণ্য দেখাবে আমাদের জাতীয় দল।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চ্যালেঞ্জ কাপ খেলা হলো। সেখানে নারী ক্রিকেটারদের নৈপুণ্য কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

সালমা : আমি কিছু কিছু ম্যাচ দেখেছি। আমার কাছে যতটুকু মনে হলো তাতে আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল। আমরা অনূর্ধ্ব-১৫ ছেলেদের সঙ্গে খেলেছি এই প্রতিযোগিতায়। আমাদের বোলাররা অধিকাংশ সময়ই ভালো করে। ব্যাটসম্যানরা এখন ভালো করছে। জ্যোতি (নিগার সুলতানা) ধারাবাহিকভাবে রান করছে, কিন্তু সে তুলনায় অন্যরা ওইভাবে নৈপুণ্য দেখাতে পারছে না। জ্যোতির সঙ্গে আরও যারা ব্যাটার আছেন, তাদেরও রান করা উচিত। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের সঙ্গে খেলাটা ভিন্ন। তবুও এই আসরে যা হয়েছে, যেমন সবুজ দলের শেষ ম্যাচটা টাই হলো, ওই ম্যাচে নাহিদা ও রাবেয়া যেভাবে ব্যাটিং করেছে, দেখতেও ভালো লাগছিল। ওই ম্যাচটা মেয়েরা জিততে পারলে ভালো হতো। সুপার ওভার খেলারও একটা অভিজ্ঞতা হলো মেয়েদের। সবমিলিয়ে আমার ভালোই লেগেছে, তবে নারী ক্রিকেটাররা আরেকটু নৈপুণ্য দেখাতে পারলে ভালো লাগত।

নৈপুণ্যে ঘাটতির পেছনে কোন বিষয়গুলোকে আপনি কারণ হিসেবে মনে করেন?

সালমা : বিকেএসপির তিন নম্বর উইকেটটা কিন্তু ভালো। আমি যতদিন ধরে ক্রিকেট খেলছি সেই অভিজ্ঞতায় এই উইকেটটাকে খারাপ বলার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। ক্রিকেটারদের নৈপুণ্যে উঠতি-পড়তি দুটো দিকই থাকে। ভালো-খারাপ মিলিয়ে একটা দল এগোয়। এগুলো আবার কেটেও যায়। এখনো প্রস্তুতির সময় রয়েছে। আমার মনে হয় বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে গেলে সবাই নিজের সেরা নৈপুণ্যটাই দেখাবেন। জ্যোতি ভালো টাচে আছেন। সেই সঙ্গে ওপেনার এবং টপ অর্ডার ব্যাটাররা যদি ভালো শুরু এনে দিতে পারেন মিডল অর্ডার স্বাভাবিকভাবেই সেটা ক্যারি অন করতে পারবে। আমাদের সময়ের তুলনায় এখন কিন্তু টপ অর্ডার অনেক ভালো করছে, রান করছে। দুয়েকটা ম্যাচ খারাপ যেতেই পারে। তার মানে এই না যে ওরা ভালো খেলে না। অন্য ব্যাটাররাও প্রতিভাবান। আমার কাছে দেখে মনে হয়েছে আমাদের প্রস্তুতিটা আরেকটু ভালো হতে পারত। যদিও হাতে কিছুদিন সময় আছে। বিশ্বকাপের আগে আমরা যদি কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে পারতাম তাহলে প্রস্তুতিটা আরও ভালো হতো। বাইরের দল বলতে আমরা শুধু অনূর্ধ্ব-১৫ ছেলেদের সঙ্গেই খেলেছি। সেই সঙ্গে যদি আন্তর্জাতিক দল যোগ হতো তাহলে প্রস্তুতির মাত্রাটাও বাড়ত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান এখন কোথায় দেখেন?

সালমা : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড ওপরের সারির দল। এরপরেই বাংলাদেশের অবস্থান বলে আমি বিশ্বাস করি। ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। কিন্তু এ ছাড়া আর অন্য দেশগুলোর আমাদের সামনে দাঁড়ানো কঠিন। নৈপুণ্য বিবেচনা করলেও আমার মনে হয় আমরা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছি।

বড় দলগুলোর তুলনায় ঘরোয়া কাঠামোর ধরন ও চর্চায় আমরা কতখানি পিছিয়ে আছি?

সালমা : আগে যে সময়গুলো গেছে সেগুলো অতীত। কী করা যেত, কী করা হয়নি এসব বললে কিছুই বদলাবে না। এখন বুলবুল (আমিনুল ইসলাম) স্যার বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য গুণগত ছোট-বড় অনেক জায়গায় কিন্তু হাত দিয়েছেন। হ্যাঁ, ফল আসতে সময় লাগবে। আমরাও বলেছি, লিগ আরও বাড়ানোর কথা, মেয়েদের ম্যাচ খেলার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য। প্রয়োজনে অল্প টিম নিয়ে হলেও নারীদের বিপিএল শুরুর কথাও আমরা সবাই মিলে বলেছি। যেমন ভারত তিনটি টিম নিয়ে শুরু করেছিল, যেখানে আমি, জাহানারা, সুপ্তা গিয়ে খেলেছি। এখন ওদের পাঁচটি টিম হয়ে গেছে। আমরা সাত-আট মাস শুধু অনুশীলনই করি, ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই কম। ম্যাচ না খেললে তো নিজেদের উন্নতি বোঝা যাবে না। আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে, সেটুকু দিয়েই মেয়েদের আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়ানো উচিত। নারীদের বিপিএল শুরু করা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত