ট্রাম্পের শুল্ক বাড়তি সুযোগ এনে দিয়েছে

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৪:১৯ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। নিজস্ব একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত এবং চীনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে, তাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সামনে মার্কিন বাজারে ২০০ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শনিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন। মোয়াজ্জেম হোসেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রয়াত সম্পাদক এবং ইআরএফের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। এতে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এবং ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারত এবং চীনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে, তাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ২০৫ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি শুল্ক আরোপ করায় ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর চীনের ওপরে বেশি শুল্কারোপ করার কারণে ৭ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার বেশি রপ্তানি হতে পারে মার্কিন বাজারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সার্বিকভাবে বাংলাদেশ “মধ্যম আয়ের দেশ”র ফাঁদে আটকে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সংকট, দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংক খাত, লজিস্টিক সিস্টেমের দুর্বলতা, অনুন্নত লেবার মার্কেট ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এর অন্যতম কারণ।’

জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে পারিবারিক পর্যায়ে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হলো অস্থিতিশীলতার পেছনে থাকা ব্যক্তিরা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। অর্থ পাচার বন্ধ হয়েছে, হুন্ডির প্রবাহ কমেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। তবে ব্যাংক লুটপাট বন্ধ হলেও প্রকৃত চিত্র উন্নত হয়নি, বরং খেলাপি ঋণ বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিবেশও বাংলাদেশের পক্ষে গেছে। বিশেষত, ডলারের দরপতন ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’ তবে এ স্থিতিশীলতার পেছনে নীতির অবদান সীমিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে, নীতিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। কিন্তু সরকারের সব সিদ্ধান্তই সঠিক হচ্ছে এমনটা বলা যাবে না।’

অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এবং ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল, সেটি হয়নি, বরং বৈষম্য বেড়েছে। ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার মূল উৎস সরকারে যারা আছে, তাদের থেকেই আসে। তাদের যোগসাজশ ছাড়া একজন কিংবা কয়েকজন মিলে পুরো ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সাংবাদিকতায় মোয়াজ্জেম হোসেনের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও নৈতিক মানদন্ড ছিল ব্যতিক্রমী। তার হাত ধরে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস শুধু নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক পত্রিকাই নয়, লাভজনক প্রতিষ্ঠানেও পরিণত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত