মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়ালেন চবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১৩ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায়। সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী মাঠে নামে। ভোর সাড়ে ৪টার পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যেতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী ২ নম্বর গেটের মাছবাজার এলাকায় শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাসায় প্রবেশ করতে চাইলে দারোয়ানের সঙ্গে তাঁর তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান ওই ছাত্রীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। পরে তিনি ফোনে তাঁর এক পুরুষ বন্ধুকে বিষয়টি জানান।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন স্থানীয়রা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে এলাকাবাসীকে আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের মসজিদ থেকেও শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। দুপক্ষের এই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আরবি বিভাগের ফুয়াদ হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শাওন, ইতিহাস বিভাগের তাহসান হাবিব, লোকপ্রশাসন বিভাগের আশরাফ রাতুল, গণিত বিভাগের লাবিব, ইংরেজি বিভাগের হাসান জুবায়ের হিমেল, অর্থনীতি বিভাগের নাহিন মুস্তফা, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আল-মাসনুন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আশিক মিয়া, দর্শন বিভাগের মাহিন ও তামিম, সমাজতত্ত্ব বিভাগের হুমায়ুন কবির, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের রিদুয়ান ব্যাংকিং, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের রিফাত ও রিপন, বাংলা বিভাগের সাইদুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. ইয়েন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, “বহু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় এখানে এসেছেন। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ জানান, “রাত ১২টার দিকে আমরা একাধিক নিরাপত্তা দল ঘটনাস্থলে পাঠাই। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকায় তাদের একত্র করা এবং দিকনির্দেশনা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও পর্যাপ্ত উপস্থিতি ছিল না।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত