সিলেটে সাদা পাথর লুটকাণ্ডের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনানকে বদলি করা হয়েছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) এক অফিস আদেশে তাঁকে বদলি করা হয়।
সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জের ওসিকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পরিদর্শক রতন শেখ।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়। গত ২৫ আগস্ট সিলেটে পুলিশের ২২ সদস্যকে বদলি করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাথর লুটকাণ্ডে আলোচিত কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট থানায় কর্মরত ১১ জন উপপরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রয়েছে।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর, সংরক্ষিত বাংকার এলাকা, ভোলাগঞ্জ কোয়ারি ও শাহ আরেফিন টিলা এলাকায় পাথর লুট ‘রোধ করতে না পারায়’ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমালোচিত হন। সর্বশেষ দেশ-বিদেশে সুপরিচিত পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে সম্প্রতি অন্তত ৮০ শতাংশ পাথর লুট হওয়ায় তাঁরা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের বদলি করা হয়। তবে বদলির কারণ হিসেবে এসব উল্লেখ করা হয়নি।
লুটের পর গত ১৩ আগস্ট সাদাপাথর এলাকায় অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে দুদক ঢাকায় একটি প্রতিবেদন পাঠায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাদা পাথর লুটপাটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪২ জন রাজনীতিবিদ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে। তাঁদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনপিসি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন। এ ছাড়া লুটপাটে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবির নিষ্ক্রিয়তা ও সহযোগিতা ছিল। কোম্পানীগঞ্জ থানার সদ্য বদলি হওয়া ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান লুটের টাকার ভাগ পেতেন বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
