বিদেশি কূটনৈতিক, উন্নয়ন সহযোগী ও প্রধান রপ্তানি বাজারের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ)। গতকাল সোমবার গুলশান পুলিশ প্লাজা কনকর্ড সমিতির নিজ কার্যালয়ে এ সভা হয়। এ সময় বিইএফে নতুন নির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক মতবিনিময় করা হয়।
বিইএফ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ত্রিপক্ষীয় অঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশের মালিকদের সংগঠন বিইএফ। আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও মৌলিক শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমিতির অঙ্গীকার উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় স্থিতিশীল শ্রমবাজার, উত্তম কর্মপরিবেশ এবং উন্নত শ্রম শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
সভায় উভয় পক্ষ গঠনমূলক সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের বৃহত্তর সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিইএফ উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি তাদের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
বিইএফ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান স্বাগত বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি পূরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং একই সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজার ও জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মালিক এবং বিনিয়োগকারীদের সামনে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলোও সামনে আনেন।
বিইএফের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহাম্মাদ, ফেডারেশনের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অতিথিদের শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে অ্যাডভোকেসি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে অবহিত করেন। পরে একটি উন্মুক্ত আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক রূপান্তরে প্রদত্ত সহায়তার অগ্রাধিকার, প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় চলতি বছরের ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ শ্রম আইনের ত্রিপক্ষীয় পর্যালোচনা ও সংশোধন নিয়ে আলোচনা হয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং আইএলওর গভার্নিং বডির রোডম্যাপের অধীনে সরকারের গৃহীত সংস্কারের মূল ভিত্তি।
কূটনৈতিক মিশনগুলো সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায় এবং সমর্থন প্রকাশ করে। সেই সঙ্গে আশা করে, অক্টোবরের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএলএর সংশোধন পাস হবে। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছেন, শ্রম অধিকারের অগ্রগতি বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে এবং কোম্পানিগুলোর সুনামহানির ঝুঁকি হ্রাস করবে।
মালিকদের মতে, এসব মন্তব্য সদিচ্ছা থেকে এলেও তা মূলত বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত, দেশীয় অগ্রাধিকার এবং চ্যালেঞ্জগুলোর যথাযথ প্রতিফলন ঘটায় না।
সভায় মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, কানাডার চার্জে দ্য অ্যাফেয়ার্স ডেব্রা বয়েস, আইএলও, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইডেনসহ বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিকেএমইএ সভাপতি, বিজিএমইএ প্রতিনিধি, বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এবং বিইএফ কমিটির সদস্যরা সভায় অংশ নেন।
