পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার পর স্বামী নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে থাকা অজ্ঞান অবস্থায় স্বামীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতের নাম রেশমী আক্তার রুমা (১৭)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর এলাকার মো. ইউসুফের মেয়ে। তার স্বামীর নাম মো.ইব্রাহিম (২০)। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি। তাদের ৮ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহত রুমার ফুফু পেয়ারা বেগম জানান,প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রুমা বাড়ি থেকে পালিয়ে ইব্রাহিমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই তারা আত্মীয়-স্বজনের আড়ালে জীবন-যাপন করছিল। এক সপ্তাহ আগে স্বামী ইব্রাহিমকে সঙ্গে নিয়ে রুমা তাদের ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসে। তবে কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি শুঁটকি শুকানোর কাজ শেষে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ থাকায় ডাকাডাকি করেন। এ সময় তাদের সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশী লোকজন ডেকে আনেন তিনি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ঘরের টিন খুলে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, রুমার গলা কাটা মরদেহ আর ইব্রাহিম ফাঁস লাগিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ত্রীর মরদেহ এবং স্বামীকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল হক বলেন, টিন কেটে ঘরের ভেতরে ঢুকে স্ত্রী গলা কাটা অবস্থায় আর স্বামী ফাঁস লাগানো অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে পুলিশ এসে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে বিস্তারিত তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে মুমূর্ষ স্বামীকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
