বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অনেক গুজব চারদিকে। গুজবে কান দেব না। কারণ গুজব গুজবই। আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য আওয়ামী লীগ ওই ভারত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমানে গুজব ছড়াচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে। সেই ঐক্য নিয়ে আমরা জয় করব ইনশাআল্লাহ।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে উত্তরার ১২ সেক্টরে একটি খালের ময়লা-আবর্জনার পরিষ্কার অভিযান উদ্বোধন করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে খাল পরিষ্কার অভিযান। আজকে আমাদের র‌্যালি হওয়ার কথা ছিল। র‌্যালি হলে রাস্তায় ভিড় হয়ে যায়, গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ হয়ে যায়, ঢাকা শহর বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের কষ্ট হয় এই কথা চিন্তা করে আমাদের নেতা তারেক রহমান বললেন, ঢাকা শহরে দুইটা অঞ্চলে দুইটা খাল আপনারা বেছে নেন যেটা আপনারা পরিষ্কার করবেন। সেইভাবে আমাদের নেতাদের বলেছি সেইভাবে এই কর্মসূচি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘একটা অনুরোধ আছে নেতাদের কাছে। সেটা হচ্ছে, আজকে পাঁচ মিনিটের জন্য দেখিয়ে চলে গেলে হবে না। আমরা দেখতে চাই, খাল পরিষ্কার হয়েছে। আপনাদের নেতাকর্মীরা পরিষ্কার করেছে। এখানে বুঝা যাবে, আপনাদের দলের প্রতি দরদ কতটা। নেতাদের স্যুট-কোট পরে আসলে হবে না, কারা পরে আসছে? স্যুট পরে কি খাল পরিষ্কার করা যাবে? যাবে না, পায়জামা পরেন, হাফ প্যান্ট পরেন, পরে সবার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতায় নামতে হবে।’

ফখরুল বলেন, ‘মহিলা নেত্রীরা কেউ কেউ সাজ-গোজ করে পার্লার থেকে আসছেন। আমি দেখতে পারছি। এই প্রোগ্রামে হবে না, হাঁটতে হবে, জনগণের কাছে যেতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপির কথা বলতে হবে। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের কথা বলতে হবে। আমি কি কথাগুলো ভুল বলেছি ভাই।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সবার আগে নেতৃত্ব নিতে হবে। কোথাও কোনো গোলযোগ করা যাবে না। বিশেষ করে নির্বাচনগুলো হচ্ছে ছাত্র সংসদগুলোতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে যেন কোনো গোলযোগ সৃষ্টি না করি। কোথাও যেন এই বদনাম না আসে বিএনপির বিরুদ্ধে। আপনারা বড় দল আপনাদের দায়িত্ব বেশি, তাই না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইতিমধ্যে তো দায়িত্ব এসেই পড়েছে। পাড়ায় মহল্লায় কোনো গোলযোগ- টোলযোগ হলে আপনাদের কাছেই লোকজন আসে না? মিটমাট করে দেওয়ার জন্য? পুলিশ ভাইয়েরা ওই দূরে থাকে তাদের বললে, বলে যে, আপনাদের ব্যাপার আপনারা বুঝেন। কারণ অপকর্ম করছে অনেক তাই না? এখন আর অপকর্ম করতে দেওয়া যাবে না। আমরা পুলিশ ভাই সবাইকে আহ্বান জানাই, অতীতে যা খারাপ কাজ করছেন, এখন দয়া করে ভালো হয়ে যান, সিদা হয়ে যান, জনগণের সঙ্গে থাকেন। তাহলে আপনাদের সবাই ভালোবাসবে।’

দেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসের রাজনৈতিক ইচ্ছা নেই; তিনি দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে বিএনপি।’

এই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামানসহ মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করে নেতাকর্মীদের নিয়ে খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘খাল খনন নিয়ে একসময় সমালোচনা হতো। তবে খাল খননের পেছনে মহৎ উদ্দেশ্য ছিল। খালের মধ্যে যে একটা কুমির ছিল, এটা কেউ খেয়াল করেনি। সেই কুমিরটা ১৭ বছর মানুষকে যন্ত্রণা দিয়ে এখন দিল্লিতে পালিয়ে আছে। তাই খাল খেটে কুমির আনা যাবে না, খাল কেটে স্বচ্ছ পানি আনতে হবে।’

মুগদার পূর্ব মানিকনগর বালুর মাঠসংলগ্ন এলাকায় এই অনুষ্ঠানে হাতে নিড়ানি তুলে নিয়ে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। দুপুর সোয়া একটার দিকে খালের পাশে একটি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করেন। তারপর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় চলে যান। সঙ্গে মহানগর দক্ষিণের নেতারাও চলে যান। পরে বালুর মাঠ ইউনিট বিএনপির সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান রাখা হয়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্তত ৪০ জন এই কার্যক্রমে অংশ নেন।

বিএনপি সরকারে নেই উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা কিন্তু সরকারে নেই। আপনারা অনেক দাবিদাওয়া করেন। আগে আমাদের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবেন, তারপরে যত দাবি আছে করেন।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই যে মাঝে মাঝে নানা ঘটনা দেখেন। এটা হলো যে আপনাদের ভোটের অধিকারটা যাতে আপনারা না পান, ভোটটা যাতে না দিতে পারেন, তার মধ্যে একটা ষড়যন্ত্র আছে।’

অদৃশ্য শত্রুকে মোকাবিলা করা কঠিন উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘কিছু অনুমান করা যায়; কিন্তু চোখে দেখা যায় না। কারণ, চিহ্নিত শত্রু মোকাবিলা করা সহজ। যেই শত্রুকে চোখে দেখা যায় না, তাকে মোকাবিলা করা খুব কঠিন।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত