‘ড্রাগন-হাতি’র ঘনিষ্ঠতা কী বার্তা দিচ্ছে পাকিস্তানকে

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৮ পিএম

চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সম্মেলনে পুতিন, কিমের পাশাপশি অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

সাত বছর পর প্রথমবার এই চীন সফরের করেছেন মোদি। তার সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও বৈঠক হয়। তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্যও রেখেছেন নরেন্দ্র মোদি।

মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় শি বলেছিলেন, বিশ্বের পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ভারত এবং চীন শুধু দুই প্রাচীন সভ্যতাই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে জনসংখ্যা বহুল দেশ এবং একইসঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অংশও। দুই দেশের জন্য ভালো বন্ধু হিসেবে থাকা এবং একে অপরের সাফল্যে অবদান রাখে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড্রাগন এবং হাতি একত্রিত হওয়া উচিত। একই সুর শোনা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠেও।

একইভাবে পহেলগাম হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটাও এই সম্পর্কের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুব একটা ভাল সম্পর্ক নয়।

অন্যদিকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে চীন। ভারত ও চীনের ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তানকে কী বার্তা দেয়?

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ প্রায় বিশ্বের বিভিন্ন নেতা এসসিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এত কিছুর পরও ভারত ও পাকিস্তানের সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে যে ওই দুই দেশের মধ্যে কে চীনের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

তিয়ানজিন বিমানবন্দরে অবতরণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েকটা ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে বেশ কয়েকটা দেশের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রয়েছি।

শাহবাজ শরিফেরও একটা ছবি তার এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা হয়েছিল। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনে অংশগ্রহণ করবেন।

তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গত রবিবার শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান ও চীনের বন্ধুত্ব পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং প্রকৃত ভালবাসার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পাকিস্তান ও চীন সমস্ত কঠিন সময়ে একে অপরকে সমর্থন করেছে। বর্তমানে বিশ্বে অনেক পরিবর্তন ঘটছে, তবে আমাদের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হচ্ছে, আমাদের গন্তব্য একই।

তিনি বলেছেন, মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানই প্রথম দেশ যারা চীনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। করাচি থেকে বেইজিংগামী প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড়েছিল ৬০ বছর আগে।

পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব আইজাজ আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক পাকিস্তানের ওপর প্রভাব ফেলবে না। বেইজিংয়ের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী ও কৌশলগত।

এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব জোহর সলিম অন্য একটা বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, নরেন্দ্র মোদি কিন্তু এর মধ্যে বহু বছর এসসিও বৈঠকে যোগ দেননি। পরিবর্তে তার মন্ত্রীদের মধ্যে কাউকে এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন।

তার মতে, এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের টানাপোড়েন চলছে। এই আবহে ভারত দেখাতে চাইছে, তাদের কাছে বিকল্প হিসাবে অন্য দেশও রয়েছে। মার্কিন সংস্থাগুলো ভারতে কাজ করছে, যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ কমছে। এই কারণে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। তাছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেয়নি ভারত। রাশিয়া থেকে তেল কেনার মতো ইস্যুকে কেন্দ্র করেও ট্রাম্প ক্ষুব্ধ।

পাকিস্তানের এই সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মনে করেন, ভারত শুধু লোক দেখানোর জন্য এই সমস্ত কিছু করছে। এতে খুব একটা গভীরতা নেই। যদিও ভারত ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ পোক্ত।

জোহর সলিমের মতে, ভারত ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সংঘাত চলছে এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও চীনের স্বার্থ একই বলে মনে করেন জোহর সেলিম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত