গণছুটিতে ফেনী পল্লী বিদ্যুতের ৫৬৯ কর্মী, ভোগান্তিতে গ্রাহক

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৫৪ এএম

ফেনীর ছয় উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসসহ বিভিন্ন সাব-স্টেশন অফিসে কর্মরত ৫৬৯ জন গণছুটিতে গেছেন। এর মধ্যে ২১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজে ফিরে এসেছে। এর ফলে ছয় উপজেলায় জরুরি সেবা, লাইন মেরামত, মিটার সংযোগ, বিলিংসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।

চার দাবিতে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৫৬৯ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।    

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন উপজেলা ও সাব-স্টেশনে কর্মরত ৫৭৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে ৫৬৯ গণছুটিতে গেছেন। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার ১১৭ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা জোনাল অফিসের ৭০, দাগনভূঞা উপজেলা জোনাল অফিসে ৬৭, পরশুরাম উপজেলায় ৩৯, ফুলগাজী উপজেলায় ৪৩ ও সোনাগাজীতে ৬৮ গণছুটিতে রয়েছেন। 

ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরের গ্রাহক ইয়াকুব হোসেন বলেন, রবিবার থেকেই বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। অভিযোগ জানাতে গেলে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। কবে এ সমস্যার সমাধান হবে,তা কিছুই বুঝতে পারছি না।

দাগনভূঞা পৌর শহরের আলাইয়ারপুর এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, নতুন মিটারের আবেদন জমা দিতে আসলেও কাউকে পাইনি। কবে কাজ হবে তাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে চললে আমাদের সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়বে।

পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর গ্রামের মো. নাহিদ বলেন, রবিবার রাত ৪টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের জরুরি সেবার মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

লাইন মেরামতে ব্যস্ত পল্লী বিদ্যুৎকর্মী। ছবি: প্রতিনিধি

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের পোল্ট্রি খামারি মো. রফিক বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। বর্তমানে লম্বা সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তা বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। বারবার আশ্বাস পেলেও কার্যকর হয়নি কিছুই। দাবি আদায় না হলে আমরা কাজে ফিরব না। তবে জনভোগান্তি আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

ফেনী সদর উপজেলার কসকা জোনাল অফিসের এজিএম কামরুল হাসান বলেন, এ অফিসে ৪০ জন কর্মচারীর মধ্যে ৩৫ জন ছুটির আবেদন ফরম দিয়ে গণছুটিতে গেছেন। বাকি পাঁচ কর্মচারী দিয়ে ৩২ হাজার গ্রাহকের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সদর উপজেলা লেমুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর ও মিরগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যার কথা জানালেও জনবল না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ নুরুল হোসাইন বলেন, জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে ফুলগাজীতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। মেরামত কাজে বিলম্ব হচ্ছে। গণছুটিতে যাওয়া কর্মীদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত