খোলা জায়গায় প্রতিদিন ৯০ টন বর্জ্য, হুমকিতে পরিবেশ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১২ পিএম

পটুয়াখালীর সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পনেরো বছর পার হলেও এখনো গড়ে ওঠেনি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এর ফলে পরিবেশের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার বাসাবাড়ি, হোটেল-রিসোর্ট, সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিদিন আশি থেকে নব্বই টন বর্জ্য পিকআপে করে পৌরসভার প্রবেশমুখের খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। 

সেখানে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি এমনকি কুকুর-শুকরের মৃতদেহও মিশে থাকে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পথচারী ও যানবাহনের চালকরা নাক চেপে যাতায়াত করছেন। ওই এলাকায় দাঁড়ানো তো দূরের কথা, এক মিনিট অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

সাগরপাড়ের এই শহরের প্রবেশমুখেই গড়ে উঠেছে বড়সড় ময়লার ভাগাড়। খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলার কারণে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও পড়তে হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধের মুখে। স্থানীয়দের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দর্শনার্থীরাও।

রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক দম্পতি আলফান ও জেমি বলেন, খোলা জায়গায় এভাবে ছড়ানো-ছিটানো ময়লা ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি যেমন শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে, তেমনি পর্যটন শিল্পের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ময়লার ভাগাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শতাধিক টোকাই কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই প্লাস্টিক, লোহা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য দ্রব্য সংগ্রহ করছে। ফলে তারা নানান স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে কাজ করছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘উপরা’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ নষ্ট করে, যা সরাসরি পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। খাজুরা এলাকায় যেভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি পৌরসভার নিজস্ব জমিতে বর্জ্য ডাম্পিংয়ের দাবি জানান।

কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুপ্রিয়া দাশ বলেন, খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। এতে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে। পচা-দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা থেকে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ নানা সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে। আর খোলা জায়গায় ময়লা পোড়ালে নির্গত ধোঁয়া বায়ুদূষণ ঘটায়।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইতোমধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে সিটিসিআর প্রকল্পের আওতায় পঁয়তাল্লিশ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিন দশমিক পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমও চলছে। বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন ও প্লাস্টিক রিসাইক্লিং করে তা ব্যবহারোপযোগী করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর বারো দশমিক পঁচাত্তর বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। ‘খ’ শ্রেণির এ পৌরসভায় প্রায় বিশ হাজার মানুষের বসবাস, ভোটার সংখ্যা নয় হাজার পাঁচশ। নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটিতে এখনো বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খাজুরা এলাকাকেই ময়লার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত