ডাকসু জাকসু এবং অতঃপর

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২৪ এএম

ডাকসুতে যা বাতাস হিসেবে দেখা গিয়েছিল, জাকসুতে তা ঝড় হিসেবে আবির্ভূত হলো। ডাকসুতে ছিল গুঞ্জন আর জাকসুতে হলো বর্জন। দীর্ঘদিন পরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে, আগ্রহ ও কৌতূহলের সীমা ছিল না। আলোচনা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে কারও কাছে মনে হতেই পারে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে শুধু ছাত্রদের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। যদিও ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা মাঝে মাঝেই উচ্চারিত হয়। কিন্তু দিন শেষে প্রমাণিত হয়, ছাত্ররাজনীতি বন্ধের বিষয়টিই একটি উচ্চমার্গের রাজনীতি। ছাত্ররা দেশের সচেতন অংশ কিন্তু তারা রাজনীতি করতে পারবে না এভাবে কেন ভাবেন তারা? তারা চান সমাজবিমুখ এমন প্রজন্ম তৈরি করতে, যারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠা নিয়েই ভাববে। তারুণ্য যেন সমাজ সচেতন না হয়, তাদের উচ্ছলতা থাকুক কিন্তু ভাবুক শুধু নিজেকে নিয়ে। বাংলাদেশে বারবার শাসকরা নিজেদের অনুগত ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে থাকে, যাদের ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল রাখার কাজে। বন্ধ করা দরকার অন্যায় ও দুর্নীতি, কিন্তু তারা চড়াও হন ছাত্ররাজনীতির ওপর। অভ্যুত্থানের পরও সেটাই ঘটছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের অবস্থান হলগুলোতে। কিন্তু হলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার পক্ষে মত তৈরি করা হয়েছে। গত ১৫ বছর হল পর্যায়ে এমন নিপীড়ন ছিল, যার ফলে ক্ষমতাসীনদের বাইরে হলগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলো সক্রিয় ছিল না। এ রকম পরিস্থিতিতে ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেল। নির্বাচনের আগে এবং পরে এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলেছে সর্বত্র। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে এত আগ্রহ ও আলোচনা পৃথিবীর কোনো দেশে হয় কি না সন্দেহ। বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কত তা সঠিকভাবে বলা না গেলেও, এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মান যাচাইয়ের একটা পদ্ধতি আছে। কিছুদিন পরপরই পত্রিকায় খবর আসে, বিশ্বের প্রথম এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। কখনো-বা তালিকার শেষের দিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তালিকায় আছে কি নেই, তা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব বোঝা যাবে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি আর গণতান্ত্রিক সংগ্রামে কীভাবে যুক্ত থাকে, মানুষের ভরসা হয়ে থাকে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস না জানলে কারও পক্ষে বুঝা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ আন্দোলনের দেশ। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় প্রতিটি আন্দোলনের হয় সূত্রপাত ঘটিয়েছে, নয়তো কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মানুষের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেতে জীবন দিতে হয়, সংগ্রাম করতে হয় এমন ঘটনা বিরল। বাংলাদেশে তা করতে হয়েছে এবং সে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারাই। সেই সংগ্রামের স্মারক হিসেবে গড়ে ওঠা শহীদ মিনার তৈরি এবং রক্ষা করতে হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উড়েছে স্বাধীনতার পতাকা, স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা এই বিশ্ববিদ্যালয়েই। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ মিলন চত্বর এবং সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনের স্মারক রাজু ভাস্কর্য, এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছে এবং প্রাণ জাগিয়েছে প্রতিটি সংকটে। সে অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, দেশের মানুষের আবেগের কেন্দ্র।  

ভাষা আন্দোলন থেকে ছয় দফা, ১৯৬৯ ও ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে সরকারকে ক্ষমতা পরিত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কেন্দ্রে। কিন্তু এর মধ্যে বারবার সন্ত্রাস, দখলদারি, চাঁদাবাজিসহ বহু অপকর্মে সেই ঐতিহ্য মøান হয়ে গিয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭০ সালে শুরু হয় সরাসরি নির্বাচন। সেই নির্বাচনে নির্বাচিত ডাকসুর নেতারাই মুক্তিযুদ্ধের পথে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে পাকিস্তানপন্থি সংগঠনগুলোই শুধু বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু বৃহত্তর ছাত্রসমাজ ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। স্বাধীনতার পর , সামরিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধেও ছিল ডাকসুসহ ছাত্রদের নেতৃত্বের ভূমিকা। ২০২৫ সালে ডাকসু ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন, সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের সুযোগ করে দেবে এই প্রত্যাশা অযৌক্তিক ছিল না। কিন্তু একটু হোঁচট খেলো মনে হচ্ছে? অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের প্রায় শেষপ্রান্তে এসে এই নির্বাচন আয়োজন করেছে। একে কি জাতীয় নির্বাচনের প্রতীকী আয়োজন হিসেবে দেখা যাবে? এই নির্বাচন কি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনের রূপ দেখাতে পারবে? এ ধরনের প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। যদি ভোটের নিরপেক্ষতা ও সততা ক্ষুণœ হয়, তাহলে তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সন্দেহের জমি তৈরি করবে না? এ রকম নানা আলোচনার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেকোনো নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয় নির্বাচনের নিরপেক্ষতা, বৈধতা এবং তৈরি করে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। এটি শুধু ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যাপার নয়। দেশের রাজনৈতিক ধারা কেমন হবে, বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনগণের আশা ও আস্থা কেমন থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি সরকারের আচরণ দ্বারা, তা প্রভাবিত হবে বহুলাংশে। ফলে জনমানুষের বিপুল আগ্রহ ছিল ডাকসু-জাকসু নির্বাচন নিয়ে। বাংলাদেশের ভোটার সংখ্যা ১২ কোটির বেশি। এর বেশিরভাগ হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি। কিন্তু এই শ্রমজীবীদের ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। এরা অসংগঠিত, ট্রেড ইউনিয়ন করা তাদের জন্য দুঃসাধ্য। বাকি যে ১৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত তারাও ট্রেড ইউনিয়ন চর্চা করার সুযোগ পান না। দেশের বাইরে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। তারা হাড়ভাঙা শ্রমে অর্জন করা টাকা দেশে পাঠান ডলার হিসেবে, পূরণ করেন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না। ফলে যে শ্রমিকের শ্রমে অর্থনীতির চাকা সচল হয়, নিজেদের কর্মক্ষেত্রে গণতন্ত্র চর্চার অধিকার কিংবা সুযোগ তাদের নেই।

বাংলাদেশ এক অর্থে তরুণদের দেশ, আন্দোলনের দেশ, প্রতিবাদের দেশ। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সাড়ে ৪ কোটির বেশি। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ কোটির কাছাকাছি হতে পারে। এরা পড়াশুনা করেন ৫৩টি পাবলিক, ১১৭টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে, মেডিকেল কলেজসহ নানা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে। এরা সবাই জাতীয় নির্বাচনের ভোটার। ফলে নির্বাচনী গণতন্ত্রের অনুশীলনকে যদি সঠিকভাবে করতে হয়, তবে তার চর্চা হওয়া উচিত শিক্ষাঙ্গন থেকে। এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া উচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, যাকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বলা হয়। এখানে ছাত্র সংগঠনের স্বাধীন নির্বাচন, ছাত্র সংসদ গঠন ভিন্ন চর্চার দৃষ্টান্ত হতে পারে। এবারের ডাকসু নির্বাচন তাই অনেকেই মনে করেছিলেন একটি নতুন সূচনা হতে পারবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এখানেও সংশয় তৈরি হয়েছে, সন্দেহ ও অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। যা দুঃখজনক।  ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নানামুখী তৎপরতার চিত্র উঠে এসেছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে তাদের নিজ এলাকার ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফোন করে চাপ দিতে চেষ্টা করেছেন। এর ফল হয়েছে নেতিবাচক।  কেউ হয়তো সেটিকে উপেক্ষা করেছেন, কেউ আবার ভয় পেয়েছেন। এটা হলো দলবাজি করার কিংবা নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষণ। এভাবে কি গণতন্ত্র চর্চা হবে? এর ফলে শুধু প্রশ্ন নয় আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। আমরা যদি দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডাকসু নির্বাচনও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে ১৮ কোটি মানুষের জন্য যে গণতন্ত্রের চর্চা কতখানি সম্ভব হবে? সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, লুটপাট, হামলার মতো অপ্রিয় সত্যগুলোকে সুন্দর ইংরেজি শব্দে ‘মব জাস্টিস’ কিংবা প্রেসার গ্রুপ বলে চালিয়ে দিলে বাস্তবতা কি পাল্টে যাবে? যদি রাজনৈতিক মত এবং এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথ যদি হয় ভয় দেখানো আর শক্তি প্রদর্শন তাহলে গণতন্ত্র কি কাগুজে বিষয় হয়ে থাকবে না? 

আশা করি, মানুষের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা রাজনৈতিক দায়বোধ আর নৈতিক চেতনার দ্বার উন্মুক্ত করবে। জনগণের কাছ থেকে শেখা আর জনগণের জন্য শেখার ক্ষেত্রে ‘লিসন অ্যান্ড লার্ন’ খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ হয়ে রাজনীতি করা এবং রাজনীতিবিদ দুর্নীতিবাজ হয়ে সম্পদ লুট করা দেখে, মানুষ রাজনীতির প্রতিই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই দুষ্টচক্র থেকে রাজনীতি ও রাষ্ট্রকে মুক্ত করার আকাক্সক্ষা গণঅভ্যুত্থানে গণমানুষকে সম্পৃক্ত করেছিল। আগস্ট অভ্যুত্থানে মানুষের আকাক্সক্ষা কেন্দ্রীভূত হয়েছিল একটি বাক্যে। বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই। বৈষম্য সমাজের সর্বত্র। চোখ খুললেই চোখে পড়ে বিভিন্ন মাত্রার বৈষম্য। শাসকরা এতটাই শক্তিশালী এবং বেপরোয়া যে, তারা কোনো আড়াল বা রাখঢাক করার প্রয়োজন বোধ করে না। তারা মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি নিয়ে গর্ব করে কিন্তু বাংলাদেশের শ্রমিকদের আয় যে এত কম, তা নিয়ে লজ্জা পায় না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য যে বাজারের পণ্য হয়ে পড়েছে, ‘টাকা যার অধিকার তার’ এই নীতি যে মানবিক মূল্যবোধ আর নাগরিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, তা নিয়ে সমাজের কোনো দায় থাকবে না? সমাজ যদি দায়হীন হয়, তাহলে তাকে পাল্টানোর ভাবনা কি ছাত্রদের থাকবে না? বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন শুধু সার্টিফিকেট বিতরণ আর ক্যারিয়ার গড়ে তোলার কেন্দ্র হয়ে না ওঠে, সেটা মানুষের অব্যক্ত চাওয়া। সে কারণেই বলা হয়, উচ্চশিক্ষা যেন উচ্চতর দায়িত্বসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলে সেই লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাজ করবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি যে একে অপরের পরিপূরক, উন্নত সংস্কৃতি ছাড়া উচ্চতর শিক্ষা সমাজে দক্ষতা সম্পন্ন দুর্বৃত্ত তৈরি করে তা আমরা দেখছি এবং বিষন্ন হয়ে পড়ছি। অভ্যুত্থান একটা আশার ঝলক দেখিয়েছে, তা যেন ধূমকেতুর মতো মিলিয়ে যাচ্ছে। শোষণ বৈষম্য তৈরি করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে শোষণবিরোধী আন্দোলনে পরিণত না করতে পারলে, আশাগুলো যেন দূরের ছায়া হয়ে রইবে। এই হতাশার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন, শিক্ষা সংস্কৃতি ও আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। জাকসু নিয়ে নিকট ভবিষ্যতে, বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর হয়তো লেখা যাবে। টের পাওয়া যাবে, প্রকৃত অর্থে ছাত্ররাজনীতি কোন পথে অগ্রসর হচ্ছে।

লেখক: রাজনৈতিক সংগঠক ও কলাম লেখক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত