চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলছে: সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৩ পিএম

ফ্যাসিস্টের দোসর ও অনিয়মের অভিযোগে ১২ জন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিকে সাময়িকভাবে বিচার কাজ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে চারজনের বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত চলছে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ১৫ অক্টোবর রাতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা ফেসবুকে হাইকোর্ট ঘেরাও করার ঘোষণা দেন। ১৬ অক্টোবর দুপুরে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে হাইকোর্ট চত্বরে প্রবেশ করেন এবং প্রধান গেট দিয়ে অ্যানেক্স ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এতে তারা বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবি জানায়।

সেইদিন সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা ছাত্রদের কাছে বলেন, বিচারপতিদের নিয়োগকর্তা রাষ্ট্রপতি। তাই পদত্যাগ বা অপসারণের উদ্যোগ রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে হয়। আপাতত ১২ জন বিচারপতিকে বেঞ্চ দেওয়া হয়নি, ফলে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর শুরু হওয়া কোর্টে তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও তদন্ত প্রক্রিয়া

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরায় সক্রিয় হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করা হয়। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

কাউন্সিল অভিযোগ যাচাই করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করে। সংবিধান অনুসারে, প্রধান বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ দুইজন বিচারপতির সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠিত হয় এবং এরপর তদন্ত শুরু হয়।

২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ১২ জন বিচারপতিকে বেঞ্চ থেকে সরিয়ে দেন। এর মধ্যে বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন ৩০ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন।

দুইজন (বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও এস এম মাসুদ হোসাইন দোলন) স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাননি; তাদের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের মেয়াদ ৩০ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। অপর দুইজন (বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান ও আশীষ রঞ্জন দাস) ইতোমধ্যে অবসর গ্রহণ করেছেন।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে রাষ্ট্রপতি দুইজন বিচারপতিকে অপসারণ করেন—বিচারপতি খিজির হায়াতকে ১৮ মার্চ এবং খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে ২১ মে। সর্বশেষ, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এখন বাকি চারজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত