দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল, ফকির, সন্ন্যাসীসহ মাজার, খানকায় হামলার অভিযোগ তদন্ত ও এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে তদন্ত শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্তে এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২১ জুন বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। আদালতের আদেশের অনুলিপি গ্রহণের ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত ১ জুলাই হাইকোর্টের এ আদেশের অনুলিপি শনিবার (৪ জুলাই) হাতে পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান রিটকারীদের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
রুলে বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি নির্যাতন ও অবমাননা থেকে তাদের সুরক্ষায় নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের প্রতি হয়রানি ও অবমাননা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
স্বরাষ্ট্র সচিব, ধর্ম সচিব, সংস্কৃতি সচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট।
সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ধর্মীয় সংশোধনের নামে দুর্বৃত্তরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ফকির, বাউলদের প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ করছে- এমন অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় প্রতিকারের নির্দেশনা চেয়ে এ রিট আবেদনটি করেন 'নারীপক্ষ'র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভীন হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাউল ও বিভিন্ন মাজার সংশ্লিষ্টসহ ২৯ ব্যক্তি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও জসিদুল ইসলাম জনি।