“শক্ত করি বাংলাদেশ”: প্রজেক্ট অক্সিজেন ৫.০ সম্পন্ন

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪০ পিএম

গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে  “শক্ত করি বাংলাদেশ” স্লোগান নিয়ে প্রজেক্ট অক্সিজেন ৫.০ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) খুলনার কয়রায়- স্কয়ার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতা, সেন্ট্রোটেক্স লিমিটেড ও টাইগার মিডিয়ার সহায়তায়। এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকয় ৫০,০০০ গাছ রোপণ করে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিত করা।

বাস্তবায়নের ধাপসমূহ:
প্রজেক্টটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছে; বীজ সংগ্রহ: সুন্দরবন থেকে প্রক্রিয়া মেনে বীজ সংগ্রহ, নার্সারি-ভিত্তিক উন্নয়ন: নির্ধারিত নার্সারিতে বীজ লালন করে স্বাস্থ্যকর চারা তৈরি; বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ: কয়রার ৪১ একর জমিতে ম্যানগ্রোভ চারাগাছ রোপণ।

জলবায়ু শিক্ষা ও তরুণদের সম্পৃক্ততা
গাছ লাগানোর বাইরে গিয়ে, প্রজেক্ট অক্সিজেন ৫.০ তার ক্লাইমেট গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে জলবায়ু শিক্ষা ও যুব-ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এ প্রোগ্রামে দুটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫০০ শিক্ষার্থী যুক্ত রয়েছে- মঠবাড়িয়া সিরাজিয়া হাই স্কুল (৩৫০ জন শিক্ষার্থী) এবং চৌকুনি দাখিল মাদ্রাসা (১৫০ জন শিক্ষার্থী)। তাদের ৯০টি গবেষণাভিত্তিক টিমে ভাগ করে ৩ মাসব্যাপী ওয়ার্কশপ, মাঠ পরিদর্শন এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে “ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন” তৈরি করা হচ্ছে। তারা শিখছে বনসৃজন, উপকূল সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক জ্ঞান। পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে যাতে দীর্ঘমেয়াদে একটি জলবায়ু সচেতন সমাজ গড়ে ওঠে।

পরিবেশগত সুফল
পরিবেশের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্বাচিত হয়েছে সেসব গাছের প্রজাতি যেগুলো বেশি অক্সিজেন উৎপাদন ও কার্বন শোষণ করে। কাকড়া, গেওয়া, সুন্দরী, গোলপাতা, কেওড়া ও গরান গাছ নদীর তীর বরাবর কৌশলগতভাবে রোপণ করা হয়েছে, যাতে উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়।

সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব
এ বছরের উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়েছে শক্তিশালী সহযোগিতার মাধ্যমে। স্কয়ার গ্রুপ, তাদের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে, টাইটেল স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়ে ২৯,০০০ গাছ দান করেছে। এছাড়াও আর্থিক সহযোগী হিসেবে সেন্ট্রোটেক্স লিমিটেড এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে টাইগার মিডিয়া যুক্ত ছিলো। বন বিভাগ রোপণের জন্য জমি লিজ দিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউএনও অফিস স্থানীয় সরকারি সহায়তা দিয়েছে। যুব সংগঠনগুলোর মধ্যে মানব কল্যাণ ইউনিট (এমকেইউ) নেতৃত্ব দিয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নে। গিভ বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকরা “৭০ টাকায় ১টি গাছ” নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসচেতনতা ও ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন চালিয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে।

প্রভাব ও পরিধি
প্রজেক্ট অক্সিজেন ৫.০ সরাসরি উপকৃত করছে কয়রার সাতটি ইউনিয়নের ২,০০,০০০+ মানুষকে, প্রাকৃতিক ঝুঁকি যেমন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় সুরক্ষা প্রদান করে। এই ৫০,০০০ গাছ পরিপূর্ণ বিকাশ লাভের পর ২০৩০ সালের মধ্যে একটি “মিনি ফরেস্ট” গড়ে তুলবে, যা প্রতিবছর ৪৩+ টন অক্সিজেন উৎপাদন এবং ১১২+ টন CO₂ শোষণ করবে। প্রকল্পটি স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব তুলে দিচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে একটি পরিবেশ-সচেতন সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

উত্তরাধিকার ও বিবর্তন

প্রজেক্ট অক্সিজেন প্রথম চালু হয় ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর পুনর্বাসন উদ্যোগ হিসেবে, যখন ৪৯ মিনিটে ৪৯,০০০ গাছ লাগানো হয় কয়রার সাতটি ইউনিয়নে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে ডুমুরিয়ায় ১,৬০০ চারা, ২০২৩ সালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৩,০০০ চারা এবং ২০২৪ সালে ৫০,০০০ দেশীয় ও ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ করা হয়—যা প্রকল্পটির ধারাবাহিক উন্নতি ও উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রমাণ।

গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (জিবিএফ) সম্পর্কে

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বেচ্ছাসেবা ও দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। জরুরি সহায়তার পাশাপাশি GBF পরিচালনা করছে 
৬টি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প:

●    প্রজেক্ট অম্বু: নিরাপদ পানির প্রবেশাধিকার।
●    প্রজেক্ট ফলন: কৃষকদের জন্য মূলধন নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ।
●    প্রজেক্ট পথচলা: যৌনকর্মীদের সন্তানদের মূলধারায় আনা।
●    প্রজেক্ট কন্যা: নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা।
●    প্রজেক্ট লড়াই: প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন।
●    ক্যাম্পেইন থাউজ্যান্ড স্মাইলস: অনগ্রসর শিশুদের জন্য ঠোঁট-কাটা সার্জারি।

জিবিএফ সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছে সামাজিক পরিবর্তনে এগিয়ে আসতে, উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং একসাথে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত