বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট করে বলেছে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যে সংবিধানের কারণে একটা সরকার এতো প্রতাপশালী হয়ে উঠেছে, এত মানুষকে হত্যা করেছে, এত মানুষকে আহত করেছে, জুলাই সনদের লিখিত স্বীকৃতির মাধ্যমে সেই সংবিধানের নূন্যতম সংশোধন আনতে হবে। এরপর নির্বাচন দিতে হবে। তা না হলে বিদ্যমান সংবিধানের আলোকে আবারও যদি নির্বাচন হয়, তাহলে যারাই ক্ষমতায় আসবে তাদের আবারও স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠার সুযোগ থেকে যাবে।
এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সংবিধান সংশোধন করে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। তাহলে সবাই মিলে জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারব।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার পল্লীশ্রী মহাবিদ্যালয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবক সমন্বিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণ শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। তারা আর আগের শাসনে ফিরে যেতে চায় না। তার প্রমাণ হলো সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন।
অতীতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন আবাসিক হলগুলোতে গেস্টরুম, গণরুম কালচারের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর অকথ্য জুলুম, নির্যাতন চালিয়েছে। আবার দলের অন্তঃকোন্দলে মারামারি, অস্ত্রের ঝনঝনানিতে খুনোখুনি পর্যন্ত হয়েছে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্রী সনি হত্যা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকর, রাজশাহী বিশ্বিবিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শরিফুজ্জামান নোমানী হত্যা এরকম দেশ স্বাধীনের পর থেকে শত শত মেধাবী শিক্ষার্থী তার নিজ ক্যাম্পাসে হত্যার শিকার হয়েছে।
তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরব ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে লেজুড়বৃত্তিক সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের শোচনীয় পরাজয় ঘটিয়েছে। দেশের মানুষ আজ সচেতন। কিসে তাদের ভালো আর কিসে তাদের মন্দ জনগণ আজ তা ভালো করেই বোঝে। তাইতো জনগণ এখন অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে নিরব ব্যালট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের পুরোনো শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন জনকল্যাণমুখী, কল্যাণকর বাংলাদেশ বিনির্মাণের।
তিনি আরো বলেন, জনগণ এখন আর কর্তৃত্ববাদী শাসন পছন্দ করে না। ফ্যাসিবাদ সরকার অব্যাহত খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি, সন্ত্রাসী, মাস্তানি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বের মাধ্যমে এদেশের ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষের ওপর জেঁকে বসেছিল। জনগণ ভেবেছিল এ অবস্থা হতে আর মনে হয় পরিত্রাণ পাবে না। কিন্তু বান্দার কোন ইচ্ছাই পূর্ণ হয় না মহান আল্লাহ যদি ইচ্ছা না করেন। তাইতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন নেমে এক দূর্দান্ত প্রতাপশালী ক্ষমতালোভী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছিল।
এখন ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনগণ এখন তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে। একারণেই জনগণ এখন অনুরূপ কোন শাসন ব্যবস্থাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে চাই না। আসতে চাইলে সেটিকে তারা লালকার্ড দেখাবে।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুক্তার হোসেনের সভাপতি বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ডুমুরিয়া উপজেলা নায়েবে আমীর গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মন্ডল। স্বাগত বক্তৃতা করেন কলেজ অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র সরদার।
এর পূর্বে সোনা বিরাজ মুই মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত অনুরূপ এক মতবিনিময় সভা স্কুল ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি শেখ মোসলেম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি বক্তৃতা করেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইকেল মল্লিক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক প্রসেন ঢালি। এ সময় প্রধান অতিথি কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট পুরস্কার তুলে দেন।
