বিবাহ বিচ্ছেদের বিধান নেই যে দেশগুলোতে  

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:১৫ পিএম

বিবাহ বা বিয়ে হলো সামাজিক বন্ধন। যার মাধ্যমে একজন নারী ও পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বিয়ে মাধ্যমে আজীবন একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি থাকলে অনেক সময় মনের অমিলের কারণে দাম্পত্য জীবনেই কলহ নেমে আসে। আর এর সামাধান হিসেবে অনেকে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেয়। 

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিনই বিবাহবিচ্ছেদ বাড়ছে। তবে ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটি পৃথিবীর এই দুটি দেশের মানুষ কখনও বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারে না।

ভ্যাটিকান সিটি

ভ্যাটিকান সিটি হল ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মগুরুদের প্রধান কার্যালয়ের মত। খুবই ছোট একটা দেশ (১ বর্গ কিলোমিটারের চেয়েও ছোট) যেখানে মাত্র ৯০০ লোক বাস করে। ওই দেশের নাগরিক ছাড়াও বহু লোক ভ্যাটিকান ভ্রমণে যায়। এই দেশে কোনো বিবাহবিচ্ছেদের বিধান নেই।

ফিলিপাইন

ফিলিপাইনে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া স্বামী বা স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। ফিলিপাইন মূলত একটা ক্যাথলিক খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেশ। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে খ্রিস্টান ক্যাথলিকদের নিয়মের চেয়েও ফিলিপাইনের আইন এমনই কড়া যে এই দেশে আইনত কোনো বিবাহবিচ্ছেদ নেই।

তবে একটা আইন আছে যার দ্বারা বিয়ের চুক্তিকে বাতিল করা যায়। তবে সেজন্য চার বছর অপেক্ষা করতে হয় আদালতের রায় পেতে। আইনি খরচ হয় প্রায় একজন ফিলিপাইনের নাগরিকের এক বছরের আয়ের সমান। এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বামী বা স্ত্রী কোন সম্পদ ক্রয় করলে সেটা দম্পতির যৌথ সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। এই সময়ে স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে আইনত সেটা একটা অবৈধ সম্পর্ক। যার শাস্তি জেল পর্যন্ত হতে পারে।

আইনি প্রক্রিয়ায় বিবাহ চুক্তি বাতিল করার পরও চার্চের মাধ্যমে আলাদাভাবে বিবাহচুক্তি বাতিল করতে হয়। এটা না করলে চার্চ কর্তৃপক্ষ অন্যত্র বিয়ে করার অনুমতি দেয় না। চার্চের এই প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেক সময় ১০ বছরও লাগে।

বিয়েচুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে আদালতে প্রমাণ করতে হয় যে বিয়ের চুক্তি বাতিলযোগ্য। যেমন হয়তো বিয়ের সময় স্বামী বা স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের কম ছিল অথবা ঐ স্বামী বা স্ত্রীর অনিরাময় যোগ্য সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড কোন রোগ আছে অথবা একাধিক বিয়ে আছে ইত্যাদি। এইভাবে বিয়ের চুক্তি বাতিল করলে আইনত ধরে নেওয়া হয় যে এই দম্পতি কোনকালেই বিবাহিত ছিল না। একারণে অনেক আইনি  সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি হয়।

ফিলিপাইন উনবিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত যখন স্পেনের উপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল তখন স্প্যানিশরা ক্যাথোলিক নিয়মে বিবাহ বিচ্ছেদের বিধান রেখেছিল। যদিও ক্যাথোলিকদের বিবাহ বিচ্ছেদের নিয়মও বেশ জটিল এবং কঠিন শর্তযুক্ত। ক্যাথোলিক নিয়মে কেবল মাত্র কোন স্পাউস ব্যভিচার করলে কিংবা অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি আছে।

ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী বিবাহ হল একটা অলঙ্ঘনীয় সামাজিক ইন্সটিটিউশন এবং পরিবারের ভিত্তি যে কারণে বিবাহকে রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। ফিলিপাইনের বর্তমান আইনে ব্যভিচার বা ধর্ম পরিবর্তন করলেও বিবাহবিচ্ছেদ করা যায় না। যদিও দেশের সিংহভাগ লোক ক্যাথোলিক খ্রিস্টান।

ফিলিপাইনের আইনে স্পাউস কর্তৃক প্রতারণা কিংবা শারীরিক নির্যাতন ঘটলেও বিবাহবিচ্ছেদ করা যায় না। যদি স্বামী বা স্ত্রী প্রমাণ করতে পারে যে স্পাউস মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন অথবা সে অস্বাভাবিক মানসিক আচরণ করে সেই ক্ষেত্রে বিবাহচুক্তি বাতিলের রায় দেয়া হয়। ফলে বিচ্ছেদের কারণ ভিন্ন হলেও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাই এই মানসিক সমস্যাকে বা ভারসাম্যহীনতাকে প্রমাণ করার চেষ্টা করে বিভিন্ন মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা সাক্ষ্যের মাধ্যমে। এই আইনি প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রে আদালতে অনেকভাবে অপমানিত হতে হয়।

বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের সমর্থনে একটা বিল ২০১০ সালে উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু আইন প্রণেতাদের অনেকে বলেছেন যে তারা চায় না যে ফিলিপাইন লাস ভেগাস হয়ে যাক যেখানে সকালে বিয়ে করে বিকেলে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়ে থাকে।

তবে ফিলিপাইনের প্রায় পাঁচ শতাংশ মুসলিমের জন্য আছে পৃথক মুসলিম আইন। যে আইনের সাহায্যে মুসলমানরা বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।

সূত্র: দ্য আটলান্টিক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত