গৌরীপুরে ভুয়া ফায়ার এক্সটিং বিক্রি, প্রক্সি অফিসার আটক

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২৫ পিএম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শিল্প-কারখানা, খাবারের দোকান, স-মিল, রাইসমিল, ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স নবায়নের নামে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভুয়া ফায়ার এক্সটিং (অগ্নিনির্বাপক বোতলজাতীয় গ্যাস) বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মর্ডান ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে পুরাতন ফায়ার এক্সটিং পরিবর্তনের নামে গ্যাসবিহীন মেয়াদউর্ত্তীণ বোতল প্রদান করায় বিক্ষুব্ধ দোকানীরা সোহরাব হোসেন নামের এক প্রক্সি অফিসারকে আটক করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের লিডার হাসানুজ্জামান শাহীন জানান, সোহরাব হোসেন ফায়ার সার্ভিসের কোনো কর্মকর্তা নন। তিনি শিল্প-কারখানা পরিদর্শন, লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স প্রদান এবং ফায়ার এক্সটিং বিক্রির কাজ সম্পূর্ণভাবে অবৈধভাবে পরিচালনা করছিলেন।

প্রক্সি অফিসার সোহরাব হোসেন উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গাঁওরামগোপালপুর গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর পুত্র। 

তিনি দাবি করেছেন, ময়মনসিংহ সদর, ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স বিভাগের ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তিনি এ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন।

মর্ডান ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মো. রমজান আলী জানান, তিন মাস আগে সোহরাব হোসেন ৬শ টাকার ভাউচার দিয়ে ফায়ার এক্সটিং বোতলে গ্যাস ও পাউডার প্রদান করেছিলেন। 

কিন্তু স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের লিডার পরীক্ষা করে দেখেন, বোতলে কোনো পাউডার নেই। গৌরীপুর তাল্লু স্পিনিং মিলেও একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে; সোহরাব হোসেনের দেয়া ফায়ার এক্সটিং দিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

শহরের অধিকাংশ খাবারের দোকান ও ইটভাটা মালিকরা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, সোহরাব হোসেন নিজেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। লাইসেন্স পরিদর্শনের সময় বড় কর্মকর্তার দাপট দেখান এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সিলগালা ও জরিমানা হুমকি দেন।

ময়মনসিংহ সদর, ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান জানান, তিনি অসুস্থ থাকার কারণে সোহরাব হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। 

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী পিএফএম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পরিচয়ে অন্য কেউ লাইসেন্স পরিদর্শন, নবায়ন বা প্রদানের সুযোগ নেই।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত