এবার কি কপাল পুড়বে অ্যাপোলো টায়ার্সের

 

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৭ পিএম

ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি স্পনসর হওয়া যেকোনো বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশাল বিজ্ঞাপনী সুবিধা। তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এই স্পনসর হওয়ার পরই ব্যবসায় ধস তথা কপাল পুড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। এবার দলটির নতুন জার্সি স্পনসর হয়েছে অ্যাপোলো টায়ার্স। পূর্বসূরীদের পথ ধরে তাদেরও কি কপাল পুড়বে?

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নতুন ‘অনলাইন গেমিং বিল’ পাশ করার পর ভারতের জার্সি স্পনসর হিসাবে চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে যেতে হয় ড্রিম ১১ কে। ফলে কোনও জার্সি স্পনসর ছাড়াই এশিয়া কাপে খেলতে হচ্ছে ভারতকে। তবে ২১ দিনের মাথায়ই নতুন স্পনসর পেয়ে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের জার্সিতে এখন দেখা যাবে নতুন স্পনসর অ্যাপোলো টায়ার্স এর নাম। ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বোর্ডের। ম্যাচপ্রতি ‘ড্রিম ১১’ বোর্ডকে ৪ কোটি রুপি করে দিলেও অ্যাপোলো টায়ার্স দেবে ৪ কোটি ৫০ লক্ষ রুপি করে। 

পুরনো স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলো

ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি স্পনসরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত অভিশাপ। ২০০১ সালে প্রচুর নাম কামানো সাহারা দশ বছর না যেতেই পড়ে ভারতীয় সিকিউরিটি ও এক্সচেঞ্জ বোর্ডের (এসইবিআই) রোষানলে। ব্যবসায় ধসের পাশাপাশি  সাহারার প্রতিষ্ঠাতা সুব্রত রায়কে শেষ পর্যন্ত জেলে যেতে হয়। দেশটির সম্প্রচার জগতের বড় প্রতিষ্ঠান স্টার ইন্ডিয়া ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত দাপট দেখালেও পরে জড়িয়ে পড়ে অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্ত ও আর্থিক চাপে। এর ফলে আধিপত্য ক্ষয়ে যায় টেলিভিশন সংস্থাটির।

চীনা ফোন জায়ান্ট, ওপ্পোর কপাল পুড়ে ভারত-চীন দ্বন্দ্বের একপ্রকার বলি হয়ে। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্যবসায় গুটিয়ে সরে দাঁড়াতে হয় ওপ্পোকে। একসময় ভারতের সবচেয়ে আলোচিত এডটেক ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠান বাইজুস। ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি স্পনসরশিপ থেকে শুরু করে ফিফা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লেও ঋণ ও দেনায় জর্জরিত হতে হতে শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হয়ে যায়। আর সবশেষ অনলাইন গেমিং বিল পাশ হওয়ার পর ভারতে রিয়াল-মানি অপারেশন বন্ধ করতে হচ্ছে ড্রিম ১১ প্রতিষ্ঠানটিকে।

এবার দেখার বিষয় অ্যাপোলো টায়ার্সের ভবিষ্যতে কী লেখা আছে। ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন জার্সি স্পনসর হিসেবে নাম লেখানোয় বিজ্ঞাপনী প্রসার হবে নাকি অন্যদের মতো তাদেরও সইতে হবে ব্যবসায় ধস!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত