মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সেলফি পরিবহন বাসের ধাক্কায় এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথলী সংযোগ মোড়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর পাটুরিয়া আরসিএল মোড়ে দুর্ঘটনায় নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী তেওতা একাডেমীর শিক্ষার্থী রিয়াদ রেজা (সতেরো)। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী সেলফি পরিবহনের বাসের এই দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সর্বস্তরের জনগণ ফুঁসে উঠে। শিক্ষার্থী নিহতের পর পরিবহন সার্ভিস বন্ধ বা বয়কটের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
প্রায় এক যুগ আগে শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট থেকে ঢাকার গাবতলী পর্যন্ত “সেলফি পরিবহন” নামে বাস সার্ভিস চালু হয়। শুরুতে ৩০–৩৫টি বাস সমন্বয়ে নির্দিষ্ট স্টপেজে উন্নত সার্ভিসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধিক ভাড়ায় চালু হয়। কিছুদিন না যেতেই আরও অনেক বাস যুক্ত হয়। তবে অন্য সার্ভিসের তুলনায় সেলফি পরিবহনে বেপরোয়া গতি, বেশি ভাড়া আদায়, মাঝেমধ্যে থামানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, সময় অপচয় এবং চালক-হেলপদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা এসবের প্রতিবাদ করলেও পরিবহনের পেটোয়াবাহিনী লোকজন চরম দুর্ব্যবহার চালিয়ে আসছে।
প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে প্রায় ৩’শ গাড়ি চলাচল করে, যার অধিকাংশ মালিক-চালক টিপ নেয়ার উদ্দেশ্যে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এতে মাঝেমধ্যে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। ৪৮–৫২ আসনের এই সার্ভিসে যাত্রা শুরুতে ৮–১০ মিনিট সার্ভিস টাইম নির্ধারিত থাকে। এতে যাত্রী সংখ্যা কম থাকলে পরবর্তী গাড়ির চালক ও হেলপাররা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই পরিবহন বয়কট ও বন্ধের দাবি জানান। নিহত শিক্ষার্থীর পিতা রেজাউল করিম, চাচা জহিরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা, উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্বাস আলী, শাহিন মোল্লা, সোনাই মতব্বর, মানিক মাতব্বর, মিন্টু কাজী, সবুজ মিয়া, অনিক রায় এবং তেওতা একাডেমীর শিক্ষক নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা চলা কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন, শিবালয় থানার ওসি মো. কামাল হোসেন ও হাইওয়ে থানা কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে আশ্বাস দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ওসি কামাল হোসেন জানান, "মহাসড়কে বেপরোয়া গতির এবং ফিটনেস বিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর ঘাতক বাস আটক করা হয়েছে এবং চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
