খেলা হচ্ছে ঘাসও কাটা হচ্ছে, এমন মাঠে শীর্ষ ফুটবল আর কতদিন!

 

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২৪ পিএম

কুমিল্লার ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম গেল কয়েক বছর ধরেই হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে আসছে দেশের দুই পরাশক্তি মোহামেডান ও আবাহনী। মৌসুমের শুরুতেই স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে বাফুফে মাঠের বরাদ্দ দিয়ে দেয় ক্লাবগুলোকে। বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে সেই মাঠের পরিচর্যার দায়িত্বও থাকে ক্লাবের। অথচ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুদল তাদের হোম ভেন্যুটিকে খেলার জন্য প্রস্তুত করতে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে। যার ফলে মৌসুমের শুরুটা হয়েছে পুরোপুরি অপ্রস্তুত মাঠে।

আজ এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয় চ্যালেঞ্জ কাপ। শিরোপার লড়াইলে নেমেছিল মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংস। মোহামেডান গত মৌসুমের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে নিজেদের মাঠে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছিল। তাই এ ম্যাচ আয়োজনের সব প্রস্তুতির দায়ভার ছিল সাদা-কালোদের। তবে মোহামেডান এই মাঠ খেলার উপযোগী করে তুলতে সেভাবে কোন দায়িত্বই নেয়নি। তাই বৃহস্পতিবার বাফুফে তড়িঘড়ি মাঠ পরিচর্যার কাজ হাতে নেয়। এবং ম্যাচ শুরুর পরও চলে মাঠের ঘাস কাটার কাজ!

উপস্থিত সংস্লিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার থেকে বাফুফের লোকজন মাঠে মাটি ফেলে উচু-নিচু স্থান ঠিক করা ও ঘাস কাটার কাজ শুরু করে। দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়ার কথা ছিল ম্যাচ। অথচ ঘাস কেটে, মাঠের গোললাইন, সেন্টার, টাচলাইন আঁকা ও পোস্টের নেট লাগাতে দেরি হওয়াতে ম্যাচ নির্ধারিত সময়ের ১১ মিনিট পর শুরু হয়। বসুন্ধরার হয়ে জোড়া গোল করে শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডরিয়েলটন গোমেজ মাঠের এই বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ হতাশা চেপে রাখেননি, 'এমন মাঠে কেন ম্যাচ!'

অথচ বাফুফে এক ম্যাচটি শুরুতে চেয়েছিল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে। তবে মোহামেডান তাতে বেঁকে বসে, বাজে মাঠে বসুন্ধরাকে আরেকবার হারানোর চিন্তা থেকেই হয়তো মোহামেডান হোমে এই ম্যাচ আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী এক্ষেত্রে বাফুফেরও কিছু করার ছিল না। তারপরও বাফুফে তড়িঘড়ি মাঠ মেরামতের কাজ না ধরলে আরও ঝুঁকি নিয়ে খেলতে হত দুই দলের ফুটবলারদের।

কুমিল্লার এ মাঠেই আসছে মঙ্গলবার গড়াবে ফেডারেশন কাপের খেলা। ফেডারেশন কাপের আয়োজক যেহেতু বাফুফে, তাই মাঠ খেলার উপযোগী করার দায়িত্ব এখন বাফুফেরও। মাঠ মানসম্মত পর্যায়ে নিতে না পারলে বাড়বে চোট ঝুকি। তাতে দেশের ফুটবল আরও পিছিয়ে পড়বে। তার দায় কিন্তু নিতে হবে সবার। তখন কিন্তু দায় চাপানোর খেলায় মাতার সুযোগ থাকবে না বাফুফে, ক্লাব কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত