অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল!

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালটি যেন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। হাসপাতালে চুরি, ছিনতাই, মাদক গ্রহণসহ নানা অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে চরম আতঙ্ক ও ভোগান্তিতে পড়েছে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকরা। হাসপাতালে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় গার্ড ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান স্থানীয়রা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনদের সাথে প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। একই সঙ্গে দালালদের দৌরাত্ম তো রয়েছেই। ছিনতাইকারীরা হাসপাতালের ভেতরে ওয়ার্ড এবং কেবিনের রোগী স্বজনদের অস্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা, মোবাইল, স্বর্ণাঅলংকার লুট করে নিয়ে যায়। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী এবং স্বজনরা জানায় দিনে দালাল চক্রের দৌরাত্ম ও ওষুধ চুরি এবং রাত নেমে এলেই হাসপাতালে শুরু হয় নেশাখোর এবং ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম।

গেল মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা শমসের আলী শ্বাসকষ্ট ও বুকের সমস্যা নিয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সন্ধ্যার আগে শমসের আলী সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচে তার বন্ধুর নিকট থেকে চিকিৎসা বাবদ ১০ হাজার টাকা ধার নেন। এ সময় সাথেই দাঁড়িয়ে ছিল হাসপাতালের ছিনতাইকারী চক্রের কয়েক সদস্য । টাকা নিয়ে আট তলা ভবনের (মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত) নিজের কেবিনে যাওয়ার পর মহিলা ও পুরুষ দুইজন  ছিনতাইকারী জোরপূর্বক তার রুমে ঢুকে ওই মুক্তিযোদ্ধার মুখ চেপে ধরে দশ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা ডাক-চিৎকার না করার জন্য হুমকিও দেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শমসের আলী বলেন, শেরপুর সদর হাসপাতালের অবস্থা খুবই খারাপ। আমি নন্নী থেকে বুকের সমস্যা নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ছিলাম। ছিনতাইকারীর কবলে পরে আমার মোবাইল টাকা সব শেষ। এখানে কারো কোনও নিরাপত্তা নেই।

দর্শনার্থী রাবেয়া বেগম বলেন, আমি কয়েকদিন আগে রাতে আমার এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলাম। আমার চোখের সামনে হাসপাতালের ভেতরে ছিনতাইকারীরা এক মহিলার গয়না খুলে নিতে দেখেছি।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মাসুম আলী বলেন, হাসপাতালে আসি চিকিৎসার জন্য। এখানে আসলেই দেখী ছিনতাই হচ্ছে, কেবিন থেকে রোগীদের কাছ থেকে টাকা মোবাইল ছিনিয়ে নিচ্ছে। এই ভয়ে এখন আর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে মন চায় না।

কবি সাংবাদিক ও সাহিত্যিক রফিক মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্প্রতি শেরপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালটির অবস্থা খুবই নাজুক। আমার স্বচক্ষে দেখা রাতের বেলায় হাসপাতালটি ছিনতাইকারী এবং নেশাখোরদের হাতে চলে যায়। তাদের ভয়ে রাতে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, নার্স কেউ থাকে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. সেলিম মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, শেরপুর সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও জনবল আছে মাত্র ১০০ সয্যার। হাসপাতালে পর্যাপ্ত লোকবল ও সিকিউরিটি গার্ড বা আনসার সদস্য না থাকায় চুরি ছিনতায়ের মতো ঘটনা ঘটছে। অপরাধ দমন এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আনসার নিয়োগ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত