কার্ড বিড়ম্বনা সমাধানে দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর প্রেক্ষিতে গত এপ্রিল মাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্মার্ট ‘আরএফআইডি’ কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। তবে এ সিদ্ধান্তের ৫ মাস পেরোলেও শতভাগ কার্ড বিতরণ করতে সক্ষম হয়নি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ বর্ষের উপরের বর্ষের সিনিয়রদের পরিচয়পত্র দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রশাসন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শতভাগ কার্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এর মধ্যে কেবল ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিতরণকৃত কার্ডগুলোতেও ধরা পড়েছে একাধিক ত্রুটি। একজনের আইডির ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করলে মিলছে অন্য জনের তথ্য। এদিকে কার্ডের আরএফআইডি প্রযুক্তিও কাজ করছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া আইডি কার্ডের ডিজাইন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এমন আইডি কার্ডের ডিজাইন মানানসই নয়। শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব দিলেও এর চেয়ে ভালো ডিজাইন করে দিতে পারত।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেন্ট্রাল আইডি কার্ড না থাকায় নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ টু ক্যাম্পাস রুটে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার নিয়ম থাকলেও কার্ড না থাকায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিতে চান না বাস চালকরা। এ ছাড়া শতভাগ কার্ড না থাকায় অবাধেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন বহিরাগতরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এদিকে বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্লাটফর্মে ডিসকাউন্ট বা এডুকেশনাল এক্সেস নিতে গেলে প্রয়োজন হয় কার্ডের, সেক্ষেত্রেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইমুনা আঁখি বলেন, ‘আইডি কার্ড পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত ছিলাম। তবে আইডি কার্ডে দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখি আমার ইনফরমেশন না দেখিয়ে আমার আরেক ক্লাসমেটের ইনফরমেশন শো করতেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার ক্লাসের প্রায় দশ জন শিক্ষার্থীর এই সমস্যা হয়েছে। মাত্র একটি সেশনের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেওয়া হলো, তাতেও ভুল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সোলায়মান তালুকদার বলেন, ‘আমার ছাত্রজীবন প্রায় শেষের দিকে। এই দীর্ঘ সময়ে সেন্ট্রাল আইডি কার্ড না থাকায় নানাধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। মেডিকেল সেন্টারে এক ধরনের কার্ড, লাইব্রেরিতে এক ধরনের কার্ড আবার আবাসিক হলে এক ধরনের কার্ড। প্রথম বর্ষ থেকেই আমরা অনেকবার সেন্ট্রাল আইডি কার্ডের কথা বলে এসেছি। এতদিন পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্ড দিতে রাজি হলেও, আমরা এখনও তা পাইনি। অতি দ্রুত শতভাগ কার্ড নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমরা ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দিয়েছি। পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের রোল নাম্বার পেলে তাদের আইডি কার্ডও দেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নয়রত পূর্বের বর্ষগুলোতে কার্ড দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপাতত পরবর্তী সেশনকে নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। সিনিয়র ব্যাচগুলোর ব্যাপারে এখনও পরিপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে আসেনি। যদি এমন সিদ্ধান্ত আসে তাহলে আমরা তাদেরওকে কার্ড দিতে পারব।’
বিতরণকৃত কার্ডের ত্রুটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে কেউ যদি সমস্যা নিয়ে আসে, আমরা অবশ্যই সেটার সমাধান করব। এ ছাড়া আমাদের কাছে যে সকল মেশিন আছে তাতে আমরা আরএফআইডি তথ্য রিডিং নিয়ে কোনো সমস্যা দেখিনি। অনেকসময় সব অ্যাপস এই ধরণের ডাটা রিড করতে পারে না।’
