মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইছামতি চা বাগানে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী নবদুর্গা পূজা। প্রতিবছরের মতো এবারও মহালয়া পরের দিন থেকে শ্রীশ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে দেবী দুর্গার নয়টি রূপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৫তম বর্ষপূর্তিতে দেবী দুর্গার নয়টি রূপে পূজা অর্চনা।
সোমবার সকালে মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, দেবী দুর্গার শৈলপুত্রী রূপে পূজা চলছে। পৌরাণিক নিয়ম অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতে দেবীর ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী রূপের পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী নবমী তিথি পর্যন্ত চলবে এই পূজা। প্রতিদিন দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় দেবীর চরণে অঞ্জলি দেবেন ভক্তরা। শ্রীমঙ্গলের এই মন্দিরে প্রতিদিন একেকটি রূপে দেবীর পূজা হয়।
বাংলাদেশের অন্য কোথাও আগাম দুর্গাপূজার এমন আয়োজন নেই। শ্রীমঙ্গলের ইছামতি চা বাগানের মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে মহালয়া থেকে শুরু হওয়া এই নব দুর্গাপূজা গত ১৫ বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আয়োজনের আগে এই আগাম পূজা স্থানীয় ও বাইরের ভক্তদের কাছে এক বিশেষ ধর্মীয় মিলনমেলায় রূপ নিয়ে থাকে।
শ্রীশ্রী মঙ্গলচণ্ডী সেবাশ্রম নবরুপে নবদুর্গা পূজার পুরোহিত দীপংকর ভট্টাচার্য। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্গাপূজায় যে চণ্ডীপাঠ করা হয় সেখানে দুর্গা দেবীর নয়টি রূপের কথা বলা আছে। তাই এখানে আলাদা আলদাভাবে দুর্গার নয়টি রূপের পূজা করা হয়ে থাকে। অনেকেই দেবীর নয়টি রূপ সম্পর্কে জানেন না।
পরিবার নিয়ে মৌলভীবাজারের রাজনগর থেকে আগত দর্শনার্থী সৌমেন দেব। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এখানে মহালয়া থেকেই পূজা শুরু হয়। আমরা চাই ভালোভাবে যেন এইবারের দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারি।
কুলাউড়া উপজেলা থেকে আগত দর্শনার্থী সুমি পাল। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত কয়েকবছর থেকে এই পূজার কথা শুনে আসছি। কিন্তু আসা হয়ে ওঠেনি। তাই এইবার প্রথম দিনেই পরিবার নিয়ে চলে এসেছি।
শ্রীশ্রী মঙ্গলচণ্ডী সেবাশ্রম নবরূপে নবদুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি সুরঞ্জিত দাশ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ২০১০ সাল থেকে এখানে নবদুর্গা পূজার আয়োজন করছি। এ বছর আমাদের ১৫তম আয়োজন। সারা দেশে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আগেই আমরা পূজা শুরু করি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। আমরা চাই এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশে শান্তি ও মানুষের কল্যাণ বয়ে আনুক।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীরা আন্দোলনরত লোকদের হত্যা করেছে
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মির একদিন নিজেই ভারতের অংশ হবে