যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ অঙ্গীকার করেছেন আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে বিদেশিদের জন্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় ভাতা ও কল্যাণ সুবিধা বন্ধ করবেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থ অপচয় ঠেকাতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য যেন এখন বিশ্বের ফুড ব্যাংক হয়ে দাঁড়িয়েছে। করদাতাদের অর্থ বিদেশিদের পেছনে অপচয় হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, শুধুমাত্র ব্রিটিশ নাগরিকরাই বেনিফিট পাবেন। বিদেশিরা চাইলে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন, তবে প্রক্রিয়াটি আরও কঠিন করা হবে এবং এতে আয়কে শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হতে পারে। এর ফলে খুব কম বিদেশিই নাগরিক হতে পারবেন। রিফর্মই একমাত্র দল যারা এই প্রতারণার ইতি টানবে এবং ব্রিটিশ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে।
এদিকে রিফর্ম ইউকের পরিকল্পনায় বর্তমানে ছয় বছর পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা গেলেও তা বাড়িয়ে ৭ বছর করা হবে। ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে বিবাহিত হলে পাঁচ বছর পর আবেদন করার সুযোগ থাকলেও বেনিফিট পাওয়ার আগে তাদের অবশ্যই ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন নিতে হবে।
নাইজেল ফারাজের মতে, বরিস জনসনের আমলে দেওয়া রেকর্ড সংখ্যক ভিসার মাধ্যমে যে ‘বরিসওয়েভ’ তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন ব্রিটেনের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। গবেষণা বলছে, এই ভিসাধারীদের মধ্যে প্রায় আট লাখ মানুষ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে লিভ টু রিমেইন পাবে, যার ফলে তাদের বেনিফিট, এনএইচএস ও সামাজিক আবাসনের অধিকার মিলবে। এ খাতে করদাতাদের ওপর বাড়তি বোঝা পড়তে পারে প্রায় ২০ হাজার কোটি পাউন্ড।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মোট কল্যাণ ব্যয় ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ২৬৬ বিলিয়ন পাউন্ড। এর মধ্যে বিদেশিদের জন্য ব্যয় হয়েছে ৯ বিলিয়ন পাউন্ড। প্রতি পাঁচজন বেকারের একজন বিদেশি। শুধু ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যেই আগস্টে ২ লক্ষাধিক মানুষ ইউনিভার্সাল ক্রেডিট নিয়েছেন, যা গত তিন বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধীনে আরও সাত লাখের বেশি অভিবাসী বর্তমানে এই ভাতা পাচ্ছেন।
