শাপলা প্রতীক পাচ্ছে না জাতীয় নাগরিক পার্টি

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

কাক্সিক্ষত শাপলা প্রতীক পাচ্ছে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দাবি সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকায় শাপলা না থাকায় তাদের ওই প্রতীক দেওয়া যাচ্ছে না। দলটিকে সংরক্ষিত তালিকা থেকে বিকল্প একটি প্রতীক বেছে নিতে হবে। তবে এনসিপি বলছে, এটি শুধু তালিকার গলদ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাবেই তাদের কাক্সিক্ষত প্রতীক বঞ্চিত করা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এনসিপি শাপলা প্রতীক পাচ্ছে না। কারণ আমাদের ১১৫টি প্রতীকের শিডিউলে শাপলা নেই। নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিত প্রতীক থেকেই নিতে হবে।’

তিনি আরও জানান, দলটিকে বিকল্প একটি প্রতীক প্রস্তাব করতে হবে এবং দুই পক্ষের সম্মতিতেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। তবে এনসিপির শীর্ষ নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ আইনগত কোনো বাধা না থাকলেও অজুহাত দেখিয়ে কাক্সিক্ষত প্রতীক দেওয়া হচ্ছে না। দলটির মুখ্য সংগঠক (উত্তর) সারজিস আলম ফেসবুকে লিখেছেন, নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন, মার্কার তালিকায় শাপলা নেই, তাই এনসিপি শাপলা প্রতীক পাচ্ছে না। এর মানে কোনো আইনগত বাধা নয়; বরং তালিকায় না থাকার কারণে তারা এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিতে পারছে না।

নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার দিন শাপলা প্রতীকের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘তাহলে ওই তালিকায় শাপলা মার্কা যুক্ত করা কাদের কাজ ছিল? এতদিন কি তারা নির্বাচন কমিশনে বসে বসে নাটক দেখেছে? নাকি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে বসে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, দল বা এজেন্সির কথামতো উঠবস করেছে।’

সব ধরনের ভ-ামিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির এই নেতা লিখেছেন, ‘যেহেতু কোনো আইনগত বাধা নেই, তাই এনসিপির প্রতীক শাপলাই হতে হবে। অন্য কোনো অপশন নেই। না হলে কোনো নির্বাচন কীভাবে হয় আর কে কীভাবে ক্ষমতায় গিয়ে মধু খাওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেটা আমরাও দেখে নেব।’

এর আগে গত সোমবার সিইসির সঙ্গে দেখা করে একই হুঁশিয়ারি দেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি শাপলা, সাদা শাপলা, লাল শাপলা চেয়েছি। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরছি না।’

প্রতীক নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনটি প্রতীকের মাধ্যমেই নিবন্ধন হতে হবে। এর ব্যত্যয় হবে না। ইসি না মানলে কীভাবে আদায় করতে হয়, তা আমরা জানি। নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে আমাদের শাপলা ছাড়া বিকল্প অপশন নেই।’

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ সংলাপ শুরু হবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘জনসম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা শুরু করব।’ তিনি জানান, সংলাপে পর্যায়ক্রমে নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, নারীনেত্রী, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই যোদ্ধারা অংশ নেবেন।

আখতার আহমেদ আরও জানান, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা এবং প্রতীকের সংরক্ষিত তালিকা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ইসিতে ফেরত এসেছে। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে অপেক্ষমাণ আছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্যায়ক্রমে চলবে এবং একটি ভালো নির্বাচনে পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রাখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত