মরণ ফাঁদে যাত্রী ছাউনি, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১২ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া জামনগর ইউনিয়নের পকেট খালি মোড়ে অবস্থিত একটি যাত্রী ছাউনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়ে এখন এক ভয়ংকর ‘মরণ ফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছে। উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই ছাউনিটির পাশ দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি রাজশাহীর পুঠিয়া-আড়ানী-বাঘা সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাছাড়াও এই সড়কটি দিয়ে ধামুর হাট, সিটির হাট, সিকদারী হাটের মত নামকরা হাটে প্রতিদিনই এই সড়ক ব্যবহার করে বহু যাত্রী চলাচল করছেন। যাদের জন্য একমাত্র আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এই জরাজীর্ণ ছাউনি। 

এলাকাবাসীর একটাই দাবি যত দ্রুত সম্ভব এই যাত্রী ছাউনিটি পুনর্নির্মাণ বা মেরামত করা হোক। যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বিশ্রাম নিতে পারে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রী ছাউনিটির খুঁটিগুলো ভেঙে গেছে। তা কোনোভাবে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, যেন ভেঙে পড়া কিছুটা সময়ের জন্য ঠেকানো যায়। ছাউনির চালগুলোতে অসংখ্য ফুটা হয়ে গেছে, পামের দেয়ালে অসংখ্য বড়বড় ফাটল দেখা দিয়েছে যেকোনো মুহূর্তে পুরোটি ধসে পড়ে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। তিন রাস্তার মাঝে যাত্রী ছাউনিটিই একমাত্র আশ্রয়স্থল। তবুও মানুষ বাধ্য হয়ে সেই ভাঙা ছাউনির নিচেই বসে থাকছেন। দূর-দূরান্ত থেকে ক্লান্ত হয়ে আসা যাত্রীরা সেখানে সামান্য ছায়া ও বিশ্রামের আশায় সময় কাটান। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জামনগর পশ্চিমপাড়ার সুজন আলী (২৮) জানান, এই ছাউনিটা অনেক পুরনো। প্রায় ২০ বছর আগে এটি নির্মাণ করা হয়। আগে প্রতিদিন মানুষ এখানে বসে বিশ্রাম নিতো। এখন ভাঙা হয়ে যাওয়ায় মানুষজন কিছুটা কম আসে, কিন্তু তবুও যারা আসে, তারা তো আর রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। তাই এখনো অনেকে এখানে বসে। 

ওই তিন রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকানী পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার তরিকুল ইসালাম (৪৫) জানান, আশেপাশে ৩ কি. মি. এর মধ্যে কোনো বসতবাড়ি নেই। বাগাতিপাড়া উপজেলার এই শেষ সিমানার রাস্তাটি পার্শ্ববর্তী ৩ উপজেলার সংযোগস্থল। যাত্রী ছাউনি বাগাতিপাড়া এলাকার মধ্যে হওয়ায় বিভিন্ন হাটের যাত্রী, ভ্যানচালক ও পথচারীরা এখানে বিশ্রাম নেন। তাই এটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি। 

স্থানীয় চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যাত্রী ছাউনিটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য অনুরোধ করেছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি ও সংস্কার করার জন্য প্রস্তাব তৈরি করেছি এবং চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সংস্কার করার জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত