গত জুনে ভারোত্তোলনের আন্তর্জাতিক সংস্থা ওজন ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন এনে ফিরিয়ে আনে ৬৯ কেজি। ক্যারিয়ারে শুরুর দিকে এই ওজন শ্রেণিতে কয়েকবার খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় মাবিয়া আক্তার সীমান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নিজেকে আরও এগিয়ে নেওয়ার। মে মাসে চায়না এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছেন ৭২ কেজিতে। ওজন কমিয়ে ১৮তম মহিলা জাতীয় ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন দুবারের এসএ গেমস সোনাজয়ী ভারোত্তোলক। আসরের দ্বিতীয় দিনে ৬৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক। রেকর্ড বুকেও উঠে যায় তার পারফরম্যান্স। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে সর্বমোট ২২০ কেজি ওজন তুলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ভারোত্তোলনের সোনার মেয়ে। যে সাফল্য তাকে দেখাচ্ছে এসএ গেমসে সোনাজয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন।
আগামী বছর জানুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৪তম এসএ গেমসের। পাক্কা ৬ বছর পর যদি বৃহৎ এই ক্রীড়াযজ্ঞ মাঠে গড়ায়, সেটা হবে মাবিয়ার জন্য নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার মঞ্চ। এমনিতে দেশের ভারোত্তোলনে তিনি জিতে নিয়েছেন সবার হৃদয়। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের মেতে ছিলেন অসংখ্য রেকর্ড ভাঙাগড়ায়। কত শত যে পদক তার শো-কেসে তা নিজেও বলতে পারলেন না হলফ করে। শুধু বললেন, ‘এ জীবনে কত কী জিতেছি, তার হিসাব রাখলে নিজের মধ্যে একটা দাম্ভিকতা চলে আসে। আমি সেটা হতে দিতে চাই না। এমনিতে পরপর দুবার এসএ গেমস সোনা জয়ের পর একটা দম্ভ তো হয়ই। তবে সেটাকে গুরুত্ব দিলে নিজেকে এগিয়ে নিতে পারব না। আর এগুতে না পারলে তো টানা তৃতীয় এসএ গেমস সোনা জেতাও সম্ভব হবে না।’
মাবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই খেলেন বাংলাদেশ আনসারের হয়ে। মে মাস থেকে ফেডারেশনের উদ্যোগে দুই জায়গায় শুরু হয়েছে ভারোত্তোলকদের এসএ গেমসের প্রস্তুতি। মাবিয়ার দল বাগেরহাটে কোচ বিশ্বাস আনিসুর রহমানের জিমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্যাম্পে থাকা ৩২ জনের বেশিরভাগ অবশ্য নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধীনে। মাবিয়া অবশ্য ঢাকাতেই নিজের মতো করে তৈরি হচ্ছেন। ফেডারেশনের জিমে আনসারের কোচের দিকনির্দেশনা মেনে ঘাম ঝরাচ্ছেন এসএ গেমসকে পাখির চোখ করে, ‘জানুয়ারিতে এসএ গেমস যদি হয়, অবশ্যই চেষ্টা করব সোনা জেতার। অবশ্য এখনই বলতে পারছি না কোন ওজন শ্রেণিতে খেলব। সেটা ফেডারেশন নির্ধারণ করে দেবে। তবে নিজের প্রিয় ক্যাটাগরি ৬৯ কেজিতে খেলতে পারলে ভালো হবে। দেশকে আরেকবার সোনা জেতাতে পারি, এটাই এখন আমার স্বপ্ন।’
চায়নায় ৭১ কেজিতে স্ন্যাচে তুলেছিলেন ৮৯ কেজি। আর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তোলেন ১১৬ কেজি। জুনে ক্যাটাগরি বদলের পর ৬৯ কেজিতে খেলে কুড়িয়ে নিয়েছেন আত্মবিশ্বাস। স্ন্যাচে ৯২ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তোলেন ১১৮ কেজি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ক্লিন অ্যান্ড জার্কে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছুঁয়েই দৌড়ে চলে যান মেন্টর ও ফেডারেশনের সভাপতি উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদের কাছে। পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে নিলেন আশীর্বাদ। নিজেকে নিয়ে ভীষণ আত্মবিশ্বাস মাবিয়া বলেন, ‘সত্যি বললে সবার সমর্থন না পেলে এত বছর ধরে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারতাম না। সেই ২০১০ থেকে খেলছি। সবসময় চেষ্টা করেছি নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। এবার নতুন ক্যাটাগরিতে যে রেকর্ড গড়লাম সেটা ভবিষ্যতে যাতে নিজেই ভাঙতে পারি, সেই চেষ্টাই থাকবে।’
