পাকিস্তানের কাছে হেরে বিদায় বাংলাদেশের

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:০৪ এএম

পাকিস্তানের কাছে ১১ রানে হেরে এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের। টস হেরে আগে ব্যাট করা পাকিস্তানের ৮ উইকেটে করা ১৩৫ রানের জবাবে বাংলাদেশ করে ৯ উইকেটে ১২৪ রান। ফলে আগামী রবিবার এবারের এশিয়া কাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও ভারত। এশিয়া কাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালে দেখা হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের।

বাস থেকে নেমে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথেই লিটন দাসের হাতে দেখা গেছে আইসপ্যাক। টসের সময় জাকের আলি অনিককে দেখেই বোঝা হয়ে যায়, নিয়মিত অধিনায়ক খেলছেন না ভার্চুয়াল সেমিফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচে। জাকের অধিনায়ক, তবে একাদশে ঢুকেছেন নুরুল হাসান সোহান। তানজিদ হাসান তামিমকে বসিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, তবে টিকে গেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। সাইফ উদ্দিন, নাসুম আহমেদ সরে গেছেন। একাদশে ঢুকেছেন শেখ মেহেদি হাসান, তাসকিন আহমেদ। বাঁচামরার ম্যাচে সম্ভাব্য সেরা একাদশ। জাকের টস জিতে নিলেন বোলিং। প্রথম ওভারে বল দিলেন তাসকিনের হাতে। ম্যাচের প্রথম বলেই চার মারলেন সাহেবজাদা ফারহান। তবে পরের বলেই তাসকিন ফিরে এলেন দারুণভাবে, তার বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে চমৎকার ক্যাচ রিশাদ হোসেনের। পরের ওভারটা করতে এলেন শেখ মেহেদি, তার বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে মিড অনে রিশাদের হাতেই ক্যাচ দেন সাইম আইয়ুব। প্রথম দুই ওভারেই পাকিস্তানের ২ উইকেট তুলে নিয়ে রানের চাকায় বেড়ি পরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। ফখর জামান উইকেটে টিকেছিলেন, তাতে রান বাড়েনি তবে বল কমেছে। ২০ বলে ১৩ রানের ইনিংসটা বরং দলকে ভুগিয়েছে। গোটা ইনিংস জুড়েই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচে তাদের সর্বোচ্চ জুটি ষষ্ঠ উইকেটে, মোহাম্মদ হারিস আর মোহাম্মদ নাওয়াজের ২৪ বলে ৩৮। সর্বোচ্চ ইনিংস হারিসের, ২৩ বলে ৩১ রান।

বাংলাদেশের সেরা বোলার তাসকিন। পেস বোলিংয়ের জন্য বিখ্যাত পাকিস্তান, তাদের ব্যাটসম্যানদেরই পরাস্ত করেছে গতি দিয়ে। ফারহানের পর শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ নাওয়াজের উইকেটও তুলে নিয়েছেন তাসকিন, চার ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ২৮। শেখ মেহেদিও ২৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। তবে সবচেয়ে আঁটসাঁট বোলিং রিশাদের, চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে জোড়া শিকার এ লেগ স্পিনারের।

১৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। শাহিন শাহ আফ্রিদির করা প্রথম ওভারেই ইমন আড়াআড়ি ব্যাটে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে। ইনিংসের পঞ্চম বলেই ১ রানে ১ উইকেট নেই বাংলাদেশের। ওয়ান ডাউনে নেমেছিলেন তাওহীদ হৃদয়, সাইফ হাসানের সঙ্গে ২১ বলে ২২ রানের একটা জুটিও হয়েছিল। কিন্তু শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হৃদয়ও ১০ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন সাইম আইয়ুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে। তার আগে অবশ্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে রানআউটের হাত থেকে বেঁচেছেন। ফেরার তাড়াতেই খুব সম্ভবত পরের বলেই হলেন আউট।

অন্যপ্রান্তে উইকেট পতন চললেও সাইফ হাসান খেলছিলেন স্বভাবজাত ভঙ্গিতেই। হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফকে দারুণ দুটো ছক্কাও মেরেছেন। খানিকটা দুর্ভাগাই বলা যায় সাইফকে। হারিস রউফের ভেতরে আসা দ্রুতগতির বলটায় লেগ সাইডে ফ্লিক খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ১৫ বলে ১৮ রান করে। পরের বলটাতেই প্রায় একই ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে ছক্কা পেয়েছেন সোহান। ওপরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া মেহেদি হাসানও মোহাম্মদ নাওয়াজের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে ক্যাচ অনুশীলন করিয়েছেন হুসাইন তালাতকে।

নুরুল হাসান সোহান কেন একাদশে নেই, এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা কম হচ্ছিল না টিম ম্যানেজমেন্টের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা জিতিয়ে নায়ক বনে যাওয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে, হয়তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলেও ঠাঁই করে নিতে পারতেন। হেলায় সুযোগটা হারিয়ে সোহান বুঝিয়ে দিলেন, নিজ যোগ্যতার চেয়ে অন্যের অযোগ্যতায় দলে আসতে পারলেই তিনি খুশি। সাইম আইয়ুবের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে খেললেন হাফ হার্টেড শট। বলটা উড়ে গিয়ে জমা পড়ল লং অফের ফিল্ডারের হাতে। নিখুঁত পাতা ফাঁদে খরগোশের মতোই ধরা পড়লেন সোহান। ২১ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে, যাতেও ভাগ্যের ছোঁয়া কম ছিল না। অধিনায়ক জাকের আলি আউট হওয়ার পর ধারাভাষ্যকার বলেছেন বুদ্ধিহীন ক্রিকেট। সাইমের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে গায়ের জোরে ব্যাট চালিয়েছেন জাকের। অফসাইডে ব্যাটের সুইট পার্টের রেঞ্জের চেয়ে বেশ খানিকটা দূরে পড়া বলটা টেনে লেগে খেলতে গিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন আকাশে। নাওয়াজ অনায়াসে ধরেন ক্যাচটা। ৯ বলে ৫ রান করে আউট হয়ে শেষ হলো জাকেরের এশিয়া কাপ অভিযান। যাওয়ার আগে বলেছিলেন শিরোপা জিততে যাবেন, আগে যেসব ক্যাচ হতো এখন সব ছয় হবে পাওয়ার হিটিং অনুশীলনের পর। জাকের এশিয়া কাপে একটা ছক্কাও মারতে পারেননি।

২৫ বলে ৩০ রান করা শামীম তবু বাংলাদেশকে জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন। তার ফেরার পর তানজিম-তাসকিনও দ্রুতই ফেরেন। খেলাটা শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে যান রিশাদ ও মোস্তাফিজ। তবে রিশাদের অপরাজিত ১৬ শুধু হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত