গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘প্রাইভেট কার চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে, তাদের কাজের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। তাদের সংগঠনকে ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে।’
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা প্রাইভেট কার চালক ইউনিয়নের বছরপূর্তিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রাইভেট কার চালানো একটা সুনির্দিষ্ট পেশা। প্রাইভেট কার চালকরা সকাল থেকে রাত অবধি ডিউটি করেন, শ্রম দেন। কিন্তু এই পেশা এবং শ্রমের কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই।’
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ছিল নাগরিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। গত ৫৪ বছরে এই মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যে ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো এদেশে ক্ষমতায় এসেছিল তাদের শিরোমণি শেখ হাসিনাকে আমাদের দেশের ছাত্র শ্রমিক জনতা অভ্যুত্থান করে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। ১৯৭১ সালে আমাদের যে আকাক্সক্ষা ছিল, নাগরিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে, সেটা আজ এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আবার নতুন করে আমরা দেখেছি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, এই দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ। কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুর, দিনমজুর, শ্রমজীবী শহরে-গ্রামে প্রতিদিন শ্রম দেন, সম্পদ তৈরি করেন। আমাদের দেশের এই খেটে খাওয়া মানুষরা বিদেশে গিয়ে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে দিন-রাত খেটে এই দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। আর তার ফলেই জিডিপি বাড়ে। তার ফলেই বাজেট বাড়ে। আমাদের সমৃদ্ধি বাড়ে। কিন্তু যারা শ্রম দিয়ে সম্পদ তৈরি করেন তাদের অধিকার পাওয়া যায় না। তাদের মর্যাদা দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আজ এই অভ্যুত্থানের পরে শ্রম সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে। নতুন করে শ্রম আইন হবে। আমরা পরিষ্কার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, যারা শ্রম দেবে তাদের শ্রমের স্বীকৃতি থাকতে হবে। আপনারা কেবলমাত্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের একটা সংজ্ঞা তৈরি করে তারপর ইউনিয়ন করার অধিকার দেবেন। শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি না হয় তাহলে শ্রমের কোনো স্বীকৃতি নেই, মূল্য নেই। এটা কোনো আইন-বিধান হতে পারে না।
জোনায়েদ সাকি বলেন, নাগরিক মর্যাদা মানে, আপনাদের প্রথমেই সব শ্রমের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে। আজ প্রাইভেট কার চালকদের জন্য কোনো নীতিমালা নেই। তারা যে শ্রম দেয়, তাদের কোনো কর্মঘণ্টা নেই। তাদের কোনো নিয়োগপত্র নেই। তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট বেতন নেই।
