তরুণ ও নারীরাই সাইবার অপরাধে বেশি ভুক্তভোগী

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৯ এএম

গত এক বছরে দেশে সাইবার অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ এর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর এবং ৫৯ শতাংশ নারী। সবচেয়ে বেশি সাইবার অপরাধের মধ্যে রয়েছে অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, যা ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এসব তথ্য জানানো হয় গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস অক্টোবর-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতাবিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার অপরাধের হার গত বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রায় দ্বিগুণ। নিত্য নতুন ধরনের অপরাধের কারণে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই অপ্রস্তুত থাকেন।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের ৪৭ দশমিক ৭২ শতাংশ সামাজিক মর্যাদাহানির শিকার, ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ আর্থিক ক্ষতি ভোগ করেন, এবং প্রায় সবাই মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যান। মাত্র ১২ শতাংশ ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নেন, যাদের মধ্যে ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ সাধারণ ডায়েরি এবং ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগকারীদের মধ্যে ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নন।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই শিক্ষিত। তাদের মধ্যে ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক পাস, ২১ দশমিক ২১ শতাংশ স্নাতক বা সম্মান পাস, ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ মাধ্যমিক পাস এবং ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ মাধ্যমিকের নিচে।

রবির সাইবার সিকিউরিটি প্ল্যানিং বিভাগের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শফি উল্লাহ বলেন, ‘প্রযুক্তির কোনো সীমানা নেই। বিশ্বের অন্য দেশের মতো আমরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছি। তাই সচেতনতার বিকল্প নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার যতটা বেড়েছে, সচেতনতাও ততটাই বাড়াতে হবে।’

সিসিএফের উপদেষ্টা ও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্যের পেছনে প্রায়ই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে। অনেকে প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এমন পোস্ট ছড়ায়। বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্টের উপ-পরিচালক তাপসী রাবেয়া জানান, শুধু গ্রামের কম শিক্ষিত ব্যক্তিরাই নয়, শহরের উচ্চশিক্ষিত অনেকেও অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের ১৫-২৫ শতাংশ আইনের আশ্রয় নিতে চান না, কারণ তারা নিজেদের অসচেতনতাকে এর জন্য দায়ী মনে করেন।

সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, সফটওয়্যার আপডেট, এবং সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করার মতো মৌলিক নিয়ম মেনে না চললে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, এমনকি রাষ্ট্রও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এই বিষয়ে অক্টোবর মাসব্যাপী প্রচারণা চলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত