ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সংগ্রামী ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী শিক্ষকগণের সংগঠন 'সাদা দল'-এর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হতাশাজনক বিবৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউটিএলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে সংগত কারণে 'সাদা দল' নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন অনুষদের ডীন এবং ১৮টি হলের মধ্যে ১৬টি হলের প্রভোস্ট সরাসরি সাদা দলের সাথে সম্পৃক্ত। এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের ১০ সদস্যের মধ্যে ৮ জনই সাদা দল ও ২ জন পিংক দলকে প্রতিনিধিত্ব করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া রিটার্নিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের অধিকাংশই সাদা দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।
ইউটিএল নেতারা প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন পরিচালনার অধিকাংশ দায়িত্ব যখন সাদা দলের শিক্ষকদের হাতে ছিল, তখন নিজেদের বিবৃতিতে দাবি করা নির্বাচনে 'জালিয়াতি ও অনিয়ম' প্রসঙ্গটি দ্বিচারিতা ও দ্বিমুখী আচরণের পর্যায়ে পড়েছে। এতে করে বিবৃতিদানকারী শিক্ষকদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে ইউটিএল মনে করে, ডাকসু শুধু ছাত্রনেতৃত্বের মঞ্চ নয়, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ, নিরাপত্তা, নীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। তাই শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ থেকেই তারা ডাকসু নির্বাচনের শুরু থেকে মতামত উপস্থাপন, নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আশঙ্কা ও দাবি উপস্থাপন এবং পরামর্শ প্রদানসহ নির্বাচনের দিন পর্যবেক্ষণ করেছে।
সংগঠনটি দৃঢ়ভাবে বলেছে, ভিত্তিহীন অভিযোগ কেবল শিক্ষার্থীদের অবমাননা নয়, এটি গণতন্ত্র ও জুলাইয়ের অর্জনকে কলঙ্কিত করে। শিক্ষার্থীদের রায়কে অসম্মান করার কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে তারা উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্তচিন্তার চর্চা রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
