চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে সেবা নেওয়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির অটোমেশন ২০ বছরে এক ইঞ্চিও এগোয়নি। এটি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় কিংবা পুরোপুরি অযান্ত্রিক না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। গতকাল শনিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কার্যালয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার সম্পর্কিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও এনবিআর সংস্কার কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবীরের সঞ্চালনায় এতে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, রাজস্ব আদায়ের বড় জায়গা হচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। এনবিআরের সাবেক সদস্য ও বর্তমান এনবিআর সংস্কার কমিটির সদস্য ফরিদ উদ্দিন আজ থেকে ২০ বছর আগে সেখানকার কমিশনার ছিলেন। তিনি সেখানে অটোমেশন যতদূর করে এসেছেন, তাতেই শেষ। এরপর আর এক ইঞ্চিও এগোয়নি। গার্মেন্টসের জন্য গ্রিন চ্যানেল করার কথা ছিল। সেটাও এগোয়নি।
মাহবুব অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যে এর কর্মকা-ের অর্ধেক অটোমেশন ও অর্ধেক ম্যানুয়াল। ব্যবসায়ীরা বারবার বলছেন, এটিকে হয় পুরোপুরি অটোমেশন, না হলে ম্যানুয়াল করুক।
পুরোপুরি অটোমেশন না হওয়ায় কী ধরনের সমস্যা হয় তার উদাহরণ দেন মাহবুব। তিনি বলেন, কাস্টম হাউজে দু-তিনটি শাখা মিলিয়ে একজন কম্পিউটার অপারেটর আছেন। সেবা নিতে সেই অপারেটরের সামনে প্রায় ২০ জন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অন্যখানে কম্পিউটার থাকলেও দেখা যায় প্রিন্টার নেই। ফলে ওই লাইনেই দিনের অর্ধেক চলে যায়। যদি ম্যানুয়াল হতো তাহলে শিটে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর নিয়ে চলে আসা যেত।
এ ব্যবসায়ী বলেন, ‘রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার হয়েছে পলিসি ও রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট দিয়ে। এটার কার্যকারিতা আমরা এখন পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারছি না। যে সংস্কার হয়েছে সেটার আরও প্রচার দরকার। দেশের এক শতাংশ মানুষ এটা সম্পর্কে জানে না।’
অনুষ্ঠানে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যদি অটোমেশন হয় তবে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু অটোমেশন শুধু এনবিআরের হলে হবে না, এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও হতে হবে।
হয়রানির উদাহরণ দিয়ে হাতেম বলেন, তাদের এক আমদানিকারক পণ্য ছাড় করতে গেলে শুল্ক গোয়েন্দা তা আটকে দেয়। নানা কাহিনি করল, শেষ পর্যন্ত কোনোটাই প্রমাণিত হলো না। এরপর দীর্ঘদিন পরে এ পণ্য কীভাবে যাবে সেটা নিয়ে শুনানি হলো। সেখানে মাশুল দিয়ে পণ্য নেওয়ার নির্দেশ দিল। এগুলো করতে করতে চার-পাঁচ মাস হয়ে গেছে। তখন তিনি গেছেন বন্দরের বিলম্ব ফি মাফ করানোর জন্য। নৌপরিবহন উপদেষ্টা আদেশ দিলেন ৫০ শতাংশ মাফ করার জন্য। এ আদেশ চট্টগ্রাম বন্দরে যেতে লেগেছে ২১ দিন। হাতেমের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বৈঠকে এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এনবিআর সংস্কারের কথা বলে আসছি। এটাকে এক সময় অরণ্যে রোদন মনে হয়েছে। যারা পলিসি করে তারা কর সংগ্রহ করতে পারে না। এনবিআর সংস্কার কমিটি খুব ভালো কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব খাতে পরিবর্তন আসবে।’
হিসাববিদ ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়–য়া জানান, এক কার্যালয়ে কর-ভ্যাট নেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। তাতে সরকারের ব্যয় সংকোচন হবে। রাজস্ব আদায়ও সহজ হবে। ব্যবসায়ীদের রাজস্ব দিতে অনেকগুলো কার্যালয়ে ধরনা দিতে হয়।
