ঈশ্বরগঞ্জে লোডশেডিংয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে মানুষ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০৪ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিং জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। শহরের চেয়ে গ্রামের অবস্থা আরো খারাপ। টানা কয়েক ঘণ্টার লোডশেডিং করা হচ্ছে। গ্রামে সন্ধ্যার পর থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেখা মিলে না বিদ্যুতের দেখা। রাত ১ টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত করা হয় একাধিকবার লোডশেডিং। এতে মানুষ ঘুমাতে পারছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাও মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

পৌর শহরের শিমরাইল গ্রামের রিদওয়ান আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ অফিস তামাশা শুরু করছে। বিদ্যুৎ ঠিকমতো থাকেনা এটা না হয় বাদেই দিলাম, কিন্তু কার্ড মিটার দিয়ে যে তারা অফিসে বসে তামাশা শুরু করছে এটা তো মানা যায় না। আমার আবাসিক মিটারে প্রতি ইউনিটে ১২.৬৭ টাকা করে কাটে। যেখানে কাটার কথা ৪-৫ টাকা। প্রথম কম কাটতো, পরে হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করলে পরে কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন দেখি আবার বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ফাজলামির শেষ কোথায়? আমি টুকটাক বুঝি বলে চেক করে দেখতে পারি। আর গ্রামের মানুষ যারা বুঝেনা তাদেরকে তো ইচ্ছেমতো অফিসে বসে বসে ঠকানো হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক আশিকুর রহমান মিন্টু।

উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের মো. খায়রুল ইসলাম দিপু বলেন, বিদ্যুৎ এখন সোনার হরিণ। তার দেখা পাওয়ার কি সাধ্য আছে!  

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন,‘কারেন্টের কথা বলে আর লাভ নেই। রাইতে-দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭-৮ ঘণ্টাও থাকে না। এই আসে, এই যায়। বাজারে তো গরম আরও বেশি। তারপরও দোকান খুলে বসে আছি। কী আর করব।’

সোহাগি ইউনিয়নের মিজানুর রহমান, জাটিয়া ইউনিয়নের বাইজিদ আলম ও পৌর শহরের আশরাফুল আলম বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জে কারেন্ট যায় না, মাঝেমধ্যে আসে। দৈনিক ৬-৭ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এমন নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা উচিত। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় দৈনিক ৬-৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। তীব্র গরমে যখন মানুষ হাঁপিয়ে উঠছে ঠিক তখনই এই লোডশেডিং। উপজেলা বাসিন্দারা মনে করছেন বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতির কারণেই বিদ্যুৎ সঠিকভাবে সরবারহ হচ্ছে না।

সকাল, দুপুর কিংবা রাতে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন। 

অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ পেতে অভিযোগ নম্বরে ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মিলছে না বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষের। তাছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও মিনিমাম চার্জ কিংবা ডাবল বিল  দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। লম্বা সময় লোডশেডিং থাকায় ফ্রিজে থাকা খাবার ও দ্রব্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থবিরতা নেমে এসেছে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসায়। 

ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম অনিতা বর্ধণ বলেন, ‘গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ লাইন মেরামত সংক্রান্ত কাজে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ ছিল। এছাড়া রেগুলার আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ সাপ্লাই পাচ্ছি ততটুকু সরবরাহ করছি। সারা দেশেই বিদ্যুতের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুতের উৎপাদন কম, চাহিদা বেশি। উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৪ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ মেগাওয়াট। আমাদের কাজ বিদ্যুৎ বিতরণ করা, লোডশেডিংয়ে আমাদের কোন হাত নেই। বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতির বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে তিনি জানিয়েছেন। 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, আমাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৭ মেগাওয়াট। কিন্তু গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ পাচ্ছি দুই মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যু্ৎ না পাওয়ায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত