নিজের থাইরয়েড জটিলতায় দেশের বাইরে চিকিৎসায় গিয়েছিলেন মীর মোশাররফ হোসেন। এরপর দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে নিজের প্রয়োজনে। চিকিৎসা নিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হয়রানি, ভোগান্তি, খরচ এসব দেখে গ্রামের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করার তাগিদ অনুভব করলেন। নিজের অন্য ব্যবসা গুটিয়ে মাথায় ঢুকল চিকিৎসা ব্যবস্থায় কাজ করার পরিকল্পনা।
২০১৩ সাল থেকে চিন্তায় এলো আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ার স্বপ্ন। হবে শহরের বাইরে। যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজে সেবা পাবে। পাশে পেলেন চট্টগ্রামের সেরা চিকিৎসা ব্র্যান্ড শেভরণকে। শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গোলাম মোস্তফা হারুন পাশে দাঁড়ালেন।
২০১৮ সালের ২ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে তুললেন শেভরণ আনোয়ারা শাখা। প্রায় ২০ হাজার বর্গফুটের দুটি ফ্লোরে ৯০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সমন্বয়ে শেভরনের এই শাখা পরিণত হয় আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালীর আস্থার ঠিকানা। বর্তমানে প্রতি মাসে এক লাখের বেশি রোগী এই সেবাকেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি আর চট্টগ্রামের নামি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এক ছাদের নিচে পেয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ দারুণ খুশি।
বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে ভালো কিছু করতে মীর মোশাররফ গড়ে তুলেছেন বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। তার সব প্রতিষ্ঠানই গ্রামকেন্দ্রিক। ২০২২ সালে হাটহাজারী উপজেলা সদরে গড়ে তোলা শেভরনের আরেকটি শাখার যাত্রা শুরু হয়। আগামী ১ নভেম্বর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে শেভরণ সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের শাখাটি। এ ছাড়া কর্ণফুলী উপজেলার শাহমীরপুর এলাকায় এভারক্স ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নামের ওষুধ কারখানাও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
উপজেলা পর্যায়ে গড়ে তোলা এসব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সুসজ্জিত প্যাথলজি ল্যাব, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চেম্বার,সার্বক্ষণিক ফার্মেসি সেবা সবই রয়েছে এখানে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মিলছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা। ক্যানসার, হৃদরোগ, মানসিক, গাইনি, নাক,কান-গলা, বাতব্যথা, মেডিসিনসহ জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা মিলছে গ্রামে থেকে।
শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির আনোয়ারা, হাটহাজারী ও কেরানীহাট শাখার উদ্যোক্তা ও ম্যানেজিং পার্টনার মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা’ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক এই অধিকার যেন ভোগান্তি শব্দের সমার্থক হয়ে উঠেছে। রোগীকে নিয়ে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয় সাধারণ মানুষকে। কোথায় গেলে মিলবে সুষ্ঠু চিকিৎসা, সাধ্যের মধ্যে কাক্সিক্ষত সেবা মিলবে কোথায় এমন প্রশ্ন যেন প্রত্যেকেরই। এসব প্রশ্নেরই সমাধান নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিধায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফিসহ যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শহরের চেয়ে অর্ধেক খরচে করপোরেট ডিসকাউন্টের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
১৯৮১ সালের ৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পিংগলা গ্রামে মীর মোশাররফ হোসেনের জন্ম। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কেন গড়ছেন এমন প্রশ্নে মীর মোশাররফ বলেন, গ্রামের মানুষ শহরে বা দেশের বাইরে গেলে নানা হয়রানির মুখে পড়ে। ঘরে বসে সেবা পেলে সেটা অনেক তৃপ্তির। আমি চিকিৎসাসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিতে চাই।
