নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধিতার নেপথ্যে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:২১ এএম

সাত কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিপরীতমুখী আন্দোলন শুরু হয়েছে। শিক্ষকরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছেন। আমরা জানি, ঢাকা সিটির অভ্যন্তরে অবস্থিত সাতটি কলেজ ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তির পর কিছু প্রশাসনিক জটিলতা হয়েছিল। সেগুলো কীভাবে দূর করা যায় তা ঢাবি কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী বা ছাত্র নেতৃবৃন্দ কখনো বিকল্প কোনো চিন্তা করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ পড়েছে। ফলে তারা নিজেদের শিক্ষার্থীদের প্রায়োরিটি দিয়েছেন, এটি সবাই করবেন এবং সেটিই স্বাভাবিক। তাই, মাঝে মাাঝ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং ফল প্রকাশে বিলম্ব হতো। তার বিকল্প অনেক কিছু করা যেত। যেমন গেস্ট টিচার এনে প্রশ্ন করা, খাতা মূল্যায়ন করা, ফল তৈরি করা ইত্যাদি কাজ দ্রুতবেগে করানো যেত। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক শিক্ষক অবসর নিয়েছেন।  তারা এসব কাজ সহজে এবং আনন্দের সঙ্গে করে দিতেন। সেই পরামর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সাত কলেজের কোনো শিক্ষক বা অধ্যক্ষ কখনই সরকার বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেননি। আর শিক্ষার্থীরা যে ভুলটি করেছেন তা হলো, তাদের একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল ঢাকার মধ্যে একটি কলেজে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সনদপ্রাপ্তির। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের কথা শুনলেই সবাই একটু অন্য দৃষ্টিতে তাকায়। সেখানে তারা ঢাবির সার্টিফিকেট পাওয়ার একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। সেটি তারা নিজেরাই নষ্ট করলেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এবং নগরবাসীর কষ্ট লাঘবের জন্য গত ২৬ মার্চ এই সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথক করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রস্তাবিত নতুন নাম দেওয়া হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। সেটি এখনো হয়নি, তাই শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন। অধ্যাদেশ জারি হলেই এটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র কাঠামো পাবে। কিছু শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছেন। তারা ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে স্বতন্ত্র কাঠামোয় নেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাত কলেজে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। তারা সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন। তবে এ দিন ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কিছু শিক্ষার্থী কলেজ অক্ষুন্ন রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারে জড়ে হয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয় ‘শিক্ষা না সিন্ডিকেট, শিক্ষা, শিক্ষা; অধ্যাদেশ জারি করো, শিক্ষা সিন্ডিকেট মুক্ত করো, শিক্ষা নিয়ে টালবাহান চলবে না চলবে না।’ শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা আন্দোলনে নেমেছেন। সরকারের পদক্ষেপের বিপরীতে আন্দোলনে নেমে তারা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করা শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে। কিন্তু কখনো শিক্ষকরা আমাদের পাশে ছিলেন না। তারা আরও বলেন, এসব কলেজে কর্মরত শিক্ষকরা মাউশিকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ঢাকায় থাকছেন নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। এখন তারা প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন।

তারা মাউশি মহাপরিচালকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরবারও পাঁচ প্রস্তাব দিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা জানান, কলেজগুলোতে আসন কমানোর ফলে দেশের বড় সংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারি কলেজের গঠনগত বৈশিষ্ট্য ও অবকাঠামো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দুই ধরনের সংকট তৈরি হয়।  ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ দীর্ঘকাল ধরে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রস্তাবিত সংকোচন কার্যকর হলে রাজধানীতে নারীদের উচ্চশিক্ষা মারাহত্মকভাবে ব্যাহত হবে, তাদের প্রবেশাধিকার সংকীর্ণ হবে এবং সংবিধান প্রদত্ত সমান সুযোগের নিশ্চয়তা লঙ্ঘিত হবে। সাত কলেজের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় হোক, সেটির বিপক্ষে তারা নন, তবে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অবশ্যই পৃথক স্থানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের মতো স্বল্প জমির দেশে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তৈরি করা মানে ফসলি জমি নষ্ট করা আর সময়সাপেক্ষ। এই বিষয়গুলোতে  শিক্ষকদের যুক্তিসঙ্গত দাবি ও মতামত থাকা প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, এই সাত কলেজের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করছেন কেন? তারা যা যা বলছেন এগুলোই কি প্রকৃত কারণ? তাদের বরং খুশি হওয়ার কথা ছিল। কারণ তাদের মধ্যে সবাই না হলেও অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতেন, সেটি না হয়ে তারা ক্যাডার সার্ভিসকেই বেশি পছন্দ করছেন কেন? আমরা যদি এই কারণগুলোর কথা বলি তাহলে সেগুলো কি অযৈাক্তিক বলা হবে? এসব কলেজের শিক্ষকরা ইতিমধ্যে বলেছেন, তারা আগে কর্মকর্তা পরে শিক্ষক। তারা সবাই না হলেও অধিকাংশই চান শিক্ষা প্রশাসনের কোনো না কোনো পদে যাবেন। তারা বোর্ডের কন্ট্রোলার, চেয়ারম্যান, মাউশির কোনো বিভাগের পরিচালক এমনকি মহাপরিচালক, নায়েমের কোন বিভাগের পরিচালক, কিংবা মহাপরিচালক, এনসিটিবির কোন উইংয়ের সদস্য, প্রধান সম্পাদক, বিশেষজ্ঞ কিংবা চেয়ারম্যান ইত্যাদি হওয়ার দৌড়ে থাকেন, উদগ্রীব থাকেন, সুযোগের সন্ধানে থাকেন যা বিশ্ববিদ্যালয় হলে সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে পড়াতে হবে, সেটিতে তারা স্বচ্ছন্দবোধ করেন না। তাই তারা বলেছেন আগে কর্মকর্তা, পরে শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে, এসব প্রশাসনিক পদে যাওয়া যাবে না। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকি পদের চেয়ে মাউশির কোনো বিভাগের পরিচালক হওয়া, মহাপরিচালক হওয়া, বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়া, এনসিটিবির সদস্য কিংবা চেয়ারম্যান হওয়া অনেক বেশি লুক্রেটিভ এবং ক্ষমতার। এসব পদে একদিকে পয়সা, অন্যদিকে দাপট; দুর্বল শিক্ষকদের ওপর ছড়ি ঘোরানো যায়। ঘন ঘন বিদেশে যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে এগুলো ঠিক সেভাবে করা যাবে না। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের  শিক্ষক যারা এসব কলেজের শিক্ষক তাদের ছেলেমেয়েরা হয় ঢাকায় পড়াশোনা করেন, নয়তো চাকরি করেন। ঢাকার অন্যান্য নাগরিক সুবিধা অন্যত্র পাওয়া যায় না। তাই তারা ঢাকার বাইরে যেতে চান না। এটিও স্বাভাবিক।

কলেজগুলো কিংবা শিক্ষা প্রশাসনের পদগুলোতেই তারা বছরের পর বছর ঘুরেফিরে থেকে যান, ঢাকার বাইরে যান না। বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষক কম লাগবে। কারণ কলেজের মতো অত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হবে না, তার মানে শিক্ষক কম লাগবে। শিক্ষক কম দরকার মানে, তাদের ঢাকার বাইরের কলেজে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই তারা বিরোধিতা করছেন। আবার কিছু কিছু বিষয়ের শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ান, তারাও চান না, তাদের এই মার্কেটে ভাটা পড়ুক। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা হলো। কিন্তু সেটিতে কি সমস্যার সমাধান হবে? একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে অনেক বছর লেগে যায়। যখন এই বিশ্ববিদ্যালয় কাজ শুরু করবে তখন হাজারো সমস্যা নিয়ে এগোতে হবে, যা আধুনিক ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মোটেই পছন্দ হবে না। তারা ক্ষণে ক্ষণে আন্দোলনে নামবেন, ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করবেন, রাস্তঘাট বন্ধ করে লাখ লাখ মানুষের দুর্যোগের কারণ হবেন আর নিজেদের একাডেমিক জীবন ধ্বংস করবেন। তারা তখন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামো আর সুযোগ সুবিধাগুলোর সঙ্গে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করবেন আর থেকে থেকে আন্দোলনে নামবেন। তার মানে, সমস্যার সমাধান হলো না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুই মেরুতে অবস্থান, সামনের দিনগুলো তো পড়েই আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া যেভাবে করা হয়েছে তাতে জানা যায় যে, চারটি ভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। এর মধ্যে স্কুল অব সায়েন্সের আওতায় ঢাকা কলেজে ফলিত গণিত, প্রাণিবিদ্য, ডেটা সায়েন্স, প্রাণরসায়ন ও জৈবপ্রযুক্তি, ইডেন কলেজ পদার্থবিদ্যা, ফলিত রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, ফরেনসিক সায়েন্স এবং বদরুন্নেসা কলেজে মনোবিজ্ঞান এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয় চালু করা যাবে। স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিসের আওতায় বাঙলা কলেজে যেসব বিষয় চালু করা যাবে, তার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকতা ও যোগাযোগ অধ্যয়ন, উন্নয়ন অধ্যয়ন, অর্থনীতি, চলচ্চিত্র অধ্যয়ন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি। স্কুল অব বিজনেসের আওতায় তিতুমীরে থাকবে হিসাববিজ্ঞান, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, হোটেল অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস, ব্যাংক অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স ম্যানেজমেন্ট এবং স্কুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিসের আওতায় কবি নজরুল কলেজে আইন এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজে অপরাধবিজ্ঞান বিষয় চালু করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে। এটিও ভালো সিদ্ধান্ত মনে হয়। ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্লাস হবে অনলাইনে, বাকিগুলো সশরীরে। পরীক্ষা হবে সশরীরে। বিশ্ববিদ্যালয় চলবে বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। প্রথম চার সেমিস্টার সাধারণ বিষয়, পরের চারটি ডিসিপ্লিনভিত্তিক। চারটি সেমিস্টার শেষ করার পর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শুধু নিজ ক্যাম্পাসে ডিসিপ্লিন পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। যেসব কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক আছে সেগুলো অক্ষুন্ন থাকবে। অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী সার্চ কমিটির মাধ্যমে উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য নিয়োগ। তবে সবই চমৎকার প্রস্তাব এবং বাস্তবায়নযোগ্য। কিন্তু যাদের জন্য এই প্রস্তাব তারা কদিন বিষয়টিকে সমর্থন করবেন, প্রশ্ন সেখানে।

লেখক: শিক্ষাবিশেষজ্ঞ ও গবেষক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত