মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ উলাইল গ্রামে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তিনজন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যার আগে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, উলাইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমানের ছেলে হাকিম আলী (২৫), মানিকনগর গ্রামের গফুর মিয়ার ছেলে সুমন (৩২) এবং খোকন (১৮)। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিবালয় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ উলাইল গ্রামের আবু মাস্টারের ছেলে মিঠু মিয়া তার বাড়িকে কেন্দ্র করে মাদক সেবন ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মঙ্গলবার বিকেলে মাদক লেনদেনকে কেন্দ্র করে মহাদেবপুর ইউনিয়নের সদস্য রাজা মেম্বার ও উথলী গ্রামের মৃদুল ওরফে কাউছারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, খবর পেয়ে শিবালয় উপজেলা শ্রমিক দল যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক উথলী গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে হাকিম আলী, সুমন ও খোকন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর কাউছার পালিয়ে গেলেও জিল্লুর রহমানকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
শিবালয় উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাজু দেশ রূপান্তরকে জিল্লুরের দলীয় পদটি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা জানার পর পরই জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবগত করা হয়ছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে অতিস্বত্তর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, বিকেলে তার বাড়ির পেছনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে কাউছারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি দাবি করেন, জিল্লুরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২০০ পিস ইয়াবা নিয়ে ওই এলাকায় এসেছেন। পরে মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি তার গতিরোধ করলে ভয়ে তিনি সঙ্গে থাকা ইয়াবাগুলো ফেলে দেন। এরপর ঘটনাস্থলে মিঠু মিয়া এসে উপস্থিত হন এবং ইয়াবা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে রাজা মেম্বার কাউছারকে মারধোর করে ইয়াবাসহ মিঠু মিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
আহত হাকিম আলীর বাবা ও উলাইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, বিকেলে মাঠে কয়েকজন যুবক খেলাধুলা করছিল। তখন তারা জানতে পারে পাশেই কয়েকজনকে মাদকসহ স্থানীয়রা আটক করেছে। তখন আমার ছেলেসহ কয়েক জন যুবক সেখানে যান। সেখানে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ হলে অভিযুক্ত মিঠু মিয়া আমার ছেলেসহ তিনজনকে ছুরিকাঘাত করে। আমার ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তবে অভিযুক্ত মিঠু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। বরং তিনি নিজেই মারধরের শিকার হয়ে মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ উলাইলের জনতার হাতে আটক জিল্লুরকে থানায় এনে বুধবার কোটে চালান দেয়া হয়েছে। মিঠু মোল্লা, রাজা মেম্বার ও কাউছার মিয়ার নামে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।