মানুষ আল্লাহ তাআলার জিকির বা স্মরণ করবে। সব সময় তার তাসবিহ-তাহলিল তথা প্রশংসা করবে- এমনটি ইচ্ছা করেছেন সৃষ্টিকর্তা। কুরআনে মানুষকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলাকে বেশি বেশি স্মরণ কর। (সুরা আহযাব : আয়াত ১৪)
হাদিসে পাকে প্রিয়নবি জিকির-আজকারের গুরুত্ব ও অসংখ্য ফজিলত বর্ণনা করেছেন। জিকিরের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় তাসবিহ বা জিকিরের বর্ণনাও করেছেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা জিকিরে থাকতেন। আমাদেরও উচিত তার উম্মত হিসেবে সর্বদা মহান আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ কর আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করো, অকৃতজ্ঞ হইয়ো না। (সুরা বাকারা: ১৫২)
সুতরাং আমরা যখন আল্লাহর জিকিরে মশগুল হই তখন একথা স্মরণ করা কর্তব্য যে স্বয়ং আল্লাহ তাআলাও আমাদেরকে স্মরণ করছেন। এতে জিকিরের স্বাদ ও মজা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের একটি ডাল ধরে ঝাঁকি দিলেন, কোনো পাতা পড়ল না। তিনি আবার ঝাঁকি দিলেন; এবারও কোনো পাতা পড়ল না। তবে তৃতীয়বার ঝাঁকি দেওয়ার পর অনেক পাতা ঝরল। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘নিশ্চয় সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা-ইলা-হা ইল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলা বান্দার গুনাহ ঝরিয়ে দেয়, যেমন (শীতকালে) গাছ তার পাতা ঝরায়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৫৩৪)
জিকিরগুলো হলো:
سُبْحَانَ اللَّهِ (উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহ) অর্থ: আর আল্লাহ তাআলা অতি পবিত্র।
اَلْحَمْدَ لِلَّهِ (উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহ) অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য।
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু) অর্থ: আর আল্লাহ তাআলা ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই।
وَاللَّهُ أَكْبَرُ (উচ্চারণ: ওয়াল্লাহু আকবার) অর্থ: এবং তিনি অতি মহান।
জিকিরগুলো একসঙ্গে মিলিয়েও পড়া যায়। যেমন- সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর। আবার আলাদা আলাদা করেও পড়া যায়। আগপিছ করেও পড়া যায়।
অন্য হাদিসে নবীজি (স.) বলেছেন, ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার পাঠ করা যা কিছুর উপর সূর্য উদিত হয়েছে সবকিছু থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয়।’ (মুসলিম: ২৬৯৫)