দশমীতে উমার বিদায়কালে সিঁদুর খেলা কেন হয়

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০১:১১ পিএম

বিজয়ী দশমীতে উমার বিদায় দিতে হয়। এসময় ভক্তকুলের হৃদয় ভারাক্রান্ত থাকে। কিন্তু  কৈলাসে ফিরতে বিদায়বেলায় দশমী তিথিতে কেন কোলাকুলি, সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন সবাই। মিষ্টিমুখও করেন। এমন অনেক প্রশ্ন অনেকের মনে আসতে পারে।হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা আছে। খবর ইণ্ডিয়া এক্সপ্রেস

বাংলার বাইরে ভারতের অন্য প্রান্তে বিজয়া দশমীকে দশেরা হিসেবে পালন করা হয়। অশুভকে হারিয়ে শুভর জয়ের দিন। রাবণ দহন করা হয়।

শাস্ত্রমতে পুরাণ অনুযায়ী, টানা ৯ দিনের যুদ্ধের পর শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। তাই তিথি অনুযায়ী বিজয়া দশমী। আবার রাম-রাবণের যুদ্ধও সেদিন শেষ হয়েছিল। তবে বাংলায় বিজয়া দশমী তিথি একটু অন্যরকম।

উমার বিদায়বেলায় একসময়ে বাংলায় নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হত। কোথাও তোপ দেগে, বন্দুক চালিয়ে মাকে বিদায় জানানো হত। তারপর চলত বিজয়ার পালা। মিষ্টিমুখ, কোলাকুলি, বড়দের প্রণাম, ছোটদের আশীর্বাদ, সমবয়সীরা কোলাকুলি করে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। কিন্তু এমন দুঃখের মুহূর্তে কোলাকুলি, মিষ্টিমুখ কেন করা হয়।

ঋগ্বেদ অনুযায়ী, এক শরৎকাল থেকে আরেক শরৎ পর্যন্ত বছর ধরা হত। অর্থাৎ শরতেই নববর্ষ ধরা হতো। বিজয়া দশমী হল শরৎ ঋতুর প্রথম দিন। অর্থাৎ নববর্ষ উদযাপনের দিন। তাই ওইদিন পরিবারের সবাই, আত্মীয়-পরিজন একত্রিত হয়ে আনন্দ উদযাপন হত। মিষ্টিমুখ, ভালমন্দ খানাপিনা চলত। সেইসঙ্গে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা উদযাপন হতো।

উমার বিদায়বেলায় সিঁদুর খেলার চল কীভাবে হল তারও শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।

হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিশ্বাস করা হয় যে ব্রহ্মা মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর করে আনন্দে ভরিয়ে রাখেন। সিঁদুর হল ব্রহ্মার প্রতীক। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, কপালে সিঁদুর পরলে সেখানে অবস্থান করেন স্বয়ং ব্রহ্মা। তাই অনেকের মতে সেই থেকেই বিজয়ার দিন সিঁদুর খেলার প্রচলন রয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত