বাজেট কাটছাঁটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫০ এএম

আসন্ন বাজেট কাটছাঁট বাতিলের দাবিতে ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্সজুড়ে ২৪০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা আরও বিস্তৃত পরিসরে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন (সিজিটি)। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু। এখনো মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ইউনিয়ন নেতারা চাইছেন সরকারি খাতে আরও ব্যয় বৃদ্ধি, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ এবং রাষ্ট্রীয় পেনশনে আনা পরিবর্তন বাতিল। এই নেতাদের মধ্যে কট্টরপন্থি সিজিটি এবং ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সিএফডিটি প্রধানরাও রয়েছেন। সিজিটির মহাসচিব সোফি বিনে বি এফএম টিভিকে বলেন, প্রথমেই আমরা জানতে চাই সরকার কারা হবে। এরপর জানতে চাই বাজেট কী হবে। আর যদি বাজেটে কোনো ধরনের পশ্চাৎপসরণ থাকে, আমরা তা অবশ্যই মেনে নেব না।

প্যারিস ছাড়াও ডিজঁ, মেটজ, পয়তিয়ে এবং মন্টপেলিয়ার শহরে বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো জানান, এসব অঞ্চলে প্রায় ৭৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে কেবল প্যারিস অঞ্চলে প্রায় ৫,০০০ পুলিশ থাকবে। ফ্রান্সের প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের বাজেটের বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বরেও বিক্ষোভ হয়েছে। ওই বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে শত-সহস্র মানুষ, যার মধ্যে শিক্ষক, ট্রেন চালক, ফার্মাসিস্ট এবং হাসপাতালের কর্মী অংশ নেন। তখন কিশোররাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডজনখানেক উচ্চ বিদ্যালয় অবরোধ করে রাখে। গত বছর ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি ইইউর ৩ শতাংশ সীমার প্রায় দ্বিগুণ ছিল। ২০২৬ সালের বাজেট পাস করাতে লেকর্নুকে সংসদীয় সমর্থন জোগাড় করার জন্য লড়াই করতে হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘাটতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হলেও, কীভাবে তা করা হবে সে বিষয়ে একমত নয়। তার পূর্বসূরি ফ্রাঁসোয়া বাইরুকে গত ৮ সেপ্টেম্বর সংসদ তার ৪৪ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের বাজেট সঙ্কোচন পরিকল্পনার কারণে পদচ্যুত করে। লেকর্নু এখনো বলেননি তিনি বাইরুর পরিকল্পনার ব্যাপারে কী করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত