হঠাৎ ঝড়ের আঘাতে নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় ঘরচাপা পড়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ঝড়ে ওই ইউনিয়নের পূর্ব দলিরাম গ্রামের হাজীপাড়া, উত্তরপাড়া, পশ্চিম দলিরাম গ্রামের বানিয়াপাড়া, পোদ্দারপাড়া ও গাড়াগ্রাম গ্রামের কালিথানপাড়ার শত শত বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের কারণে ধান, আলু, কলাসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং কিছু দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গ্রামগুলোতে।
গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জোনাব আলী বলেন, নিমিষেই অসংখ্য বাড়িঘর গাছপালা ল-ভ- হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী জানায়, ভোর থেকে বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ সকাল ৮টার দিকে ঝড় শুরু হয়। এতে চার শতাধিক পাকা ও কাঁচা বাড়িঘড় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। পাশাপাশি শত শত গাছপালা ভেঙে গেছে। গাড়াগ্রাম মাঝাপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি দুলু মিয়া জানান, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব দলিরাম গ্রামের হাজীপাড়া ও উত্তরপাড়া, পশ্চিম দলিরাম গ্রামের বানিয়াপাড়া ও পোদ্দারপাড়া ও গাড়াগ্রাম গ্রামের কালিথানপাড়ার চার শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ ঘরের টিন উড়ে গেছে।
কিশোরীগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়ে থাকায় প্রথম দিকে উদ্ধারকাজে সমস্যা হয়। তবে এলাকাবাসীর সহায়তায় আমরা দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ করি। তিনি বলেন, যারা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত ৩০ জনের মধ্যে তাইফুল (৩০), তাসিন (২৫), রয়েল (৩০), ফুলছান (৪০), আতিককে (২২) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ২৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া অনেক গবাদি পশু আহত হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একটি টিম কাজ করছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
কিশোরীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতম সাহা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের পক্ষে শুকনো খাবার প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত সরকারি অনুদান প্রদান করা হবে।
লালমনিরহাটে কয়েকটি গ্রাম, শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত : লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ল-ভ- হয়ে গেছে কয়েকটি গ্রাম। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া এ ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যেই শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উড়ে যায় টিনের চাল, উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছপালা।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ে টিন ও ইটের আঘাতে বাদশা মিয়া (৪০), মামুদ মিয়া (৭০) ও শহিদুল ইসলাম (৪৬) নামে তিনজন আহত হন। তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ প্রবল বাতাস বইতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি ভেঙে যায়, গাছপালা উপড়ে পড়ে। ঝড়টা আরও কিছুক্ষণ স্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হতো।’
ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘মধ্য শ্রুতিধর ও চরনোহালী গ্রামে অন্তত ৫০টি পরিবারের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা ইউএনও মোছা. জাকিয়া খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে তদন্ত দল পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি হচ্ছে। তাদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
