সুইডিশ জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মোট ১৭১ জন মানবাধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এর আগে ১৫৬ জন ফেরত পাঠাবার কথা বলা হয়েছিল।
ইসরায়েল জানিয়েছে মোট ১৭১ জনকে গ্রিস ও স্লোভাকিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রিস, ইতালি, জার্মানি, বুলগেরিয়া, লিথুনিয়া, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, স্লোভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, সার্বিয়া ও মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
গত সপ্তাহে গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪০টির বেশি নৌযান সাগরে আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। তারা নৌযানগুলোয় থাকা প্রায় ৪৭০ জন মানবাধিকারকর্মীকে আটক করে। মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, ইসরায়েলের আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় তারা অশোভন আচরণের শিকার হয়েছেন।
তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফ্লোটিলাকে ‘পিআর স্টান্ট’ বলে উল্লেখ করেছে। বলেছে, আটক মানবাধিকারকর্মীদের আইনি অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ইসরায়েল।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে দ্বিতীয়বার গ্রেটা থুনবার্গকে ফেরত পাঠাল ইসরায়েল। এর আগেও তিনি সমুদ্রপথে গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তখনো সফল হননি।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য ও ঔষধপত্র নিয়ে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ মিশনের অন্তর্ভুক্ত ৪৩টি নৌযান গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বন্দর থেকে গাজার উপকূলের দিকে নিজেদের যাত্রা শুরু করে। এই অভিযানের প্রধান উদ্যোক্তা ছিল চারটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একটি জোট, যার নাম ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি)। এই জোটভুক্ত সংগঠনগুলো হলো— ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লেবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা।
এই মিশনে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতিসহ ৪৪টি দেশের মোট ৫০০ জন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। এই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ ছিলেন পার্লামেন্ট সদস্য, কেউ আইনজীবী, কেউ রাজনৈতিক কর্মী আবার কেউ ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী।
গত বুধবার রাতে প্রথমে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ১৩টি নৌযানকে আটক করে। তবুও অবশিষ্ট ৩০টি নৌযান গাজার দিকে তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখে। এই ৩০টি জাহাজের মধ্যে পোল্যান্ডের নৌযান ম্যারিনেত্তি সবার সামনে ছিল। এরপরের দুই দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, একে একে বাকি নৌযানগুলোও ইসরায়েলি নৌ সেনাদের হাতে আটক হয়। আটক হওয়া নৌযান ও অভিযাত্রীদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে রাখা হয়েছিল।
