ঈশ্বরগঞ্জে মরদেহের পকেটে মিলল দুই টুকরো চিরকুট 

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:০২ পিএম

রেললাইনে পড়েছিল পাঞ্জাবি, টুপি ও তাসবীহ। হাত-পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন রক্তমাখা দেহ দেখে ছিল না চেনার উপায়। মরদেহের পড়নের পাঞ্জাবির পকেট থেকে দুই টুকরো চিরকুট পায় পুলিশ। এক টুকরো চিরকুটে লেখা 'আমার মরে যাওয়াতে কাউকে দায়ী করবেন না'। অপরটিতে লেখা নিহতের নাম, ঠিকানা ও পরিবারের মোবাইল নম্বর। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নে।

সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর বাজার সংলগ্ন চট্টগ্রামগামী চলন্ত বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে নিচে কাটা পড়ে মো. আব্দুল সালাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির দুই পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে মহেশপুর এলাকার রেললাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ছালামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার চন্দ্রতলা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলার আঠারবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি লোকটির দেহ তিন খণ্ড হয়ে রেলপথে পড়ে আছে। পরে আমরা কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করি। 

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর এলাকায় বোন সাহেরা খাতুনের বাড়িতে আসছিলেন ছালাম। তার আগে একই দিন সকালে নিজ বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে আসেন ছালাম। পরিবার ও পুলিশের ধারণা মানসিক সমস্যার ছালাম আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

চিরকুটে লিখে যাওয়া মোবাইল নম্বরে কল দিলে নিহতের ভাবি পান্না আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। তার সংসারে স্ত্রী ও তাবাসসুম নামে সাড়ে তিন বছরের এক মেয়ে রয়েছে।  

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, বিজয় ট্রেনে কাটা পড়ে আব্দুস ছালামের ডান পা, বাঁ হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চলন্ত ট্রেনের গতিতে তার সমস্ত শরীর থেঁতলিয়ে গেছে। নিহতের পরিহিত পাঞ্জাবির পকেট থেকে দুই টুকরো চিরকুট পাওয়া যায়। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় আমরা তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছি। তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহাউদ্দীন ফারুকী বিপিএম-পিপিএম বলেন, নিহত ছালাম একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী ছিলেন। তার চিকিৎসার কাগজপত্র আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত