নাঙ্গলকোটের তিন সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার মানুষ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের উত্তরাঞ্চলের তিনটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন যেন দুর্ভোগের প্রতীক। গত প্রায় চার বছর ধরে সংস্কারহীন এসব সড়ক আজ গর্তে ভরা, খানা-খন্দকে জর্জরিত। শত শত গর্তে জমে থাকা পানিতে অনেক জায়গা এখন ছোট পুকুরের মতো হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিনই এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে।

এই সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক থেকে শুরু করে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স—সবাই পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। যাত্রীরা বলছেন, এক সময় ১০ মিনিটের পথ এখন পাড়ি দিতে সময় লাগছে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। বৃষ্টি হলে গর্তে জমে থাকা পানিতে রাস্তা আর খাল-পুকুরের পার্থক্য বোঝা যায় না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার তিনটি মাহিনী-জোড়পুকুরিয়া সেতু পর্যন্ত, নাঙ্গলকোট শ্রীফলিয়া-বাঙ্গড্ডা সড়ক ও নাঙ্গলকোট স্টিল সেতু থেকে মাধবপুর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। এ তিনট সড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে প্রতিটি অংশে গর্ত ও খানা-খন্দক তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে সেগুলো পুকুরের মতো হয়ে গেছে। বেশিভাগ সড়কের পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি সরে না। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে থাকে এবং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। মাহিনী-জোড়পুকুরিয়া সড়কের মাহিনী দারুল কোরআন মাদ্রাসা থেকে অলিপুর বাজার পর্যন্ত অংশে সবচেয়ে বেহাল অবস্থা।

স্থানীয়রা জানান, চার বছর ধরে এই সড়কটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝে মাঝে স্থানীয় উদ্যোগে ও ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় ইটের টুকরা ফেলে চলাচলের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

নাঙ্গলকোট-শ্রীফলিয়া-বাঙ্গড্ডা সড়কের চেহরিয়া, কৈয়া, ভূলুয়াপাড়া, সাবিত্রা ও নাঙ্গলকোট অংশেও একই দূরবস্থা। বিশেষ করে কৈয়া গ্রামের ভেতরের চার-পাঁচটি বড় গর্ত এখন পুরোপুরি পানিতে ভরা। ওই অংশ দিয়ে ছোট যানবাহন তো দূরের কথা, পথচারীদেরও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে নাঙ্গলকোট স্টিল সেতু থেকে মাধবপুর পর্যন্ত সড়কের মক্রবপুর ও মাধবপুর অংশে অবস্থা আরও ভয়াবহ। সড়কের গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় অ্যাম্বুলেন্স বা রোগীবাহী গাড়ি যেতে পারছে না। এতে অনেক সময় অসুস্থ রোগীরা আরও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এলাকাবাসী জানান, বেহাল সড়কগুলোর কারণে এখন প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও পিকআপভ্যানকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়ে পড়ে মাঝপথে।

এ বিষয়ে কৈয়া গ্রামের সিএনজি চালক নবী বলেন, ছেহরিয়া থেকে কৈয়া পর্যন্ত সড়কের চেহারা এমন হয়েছে যে, যাত্রী নিতে গেলেই ভয় লাগে। বড় বড় গর্তে পড়ে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। কিছু জায়গায় গর্ত এত গভীর যে মনে হয় পুকুরে পড়েছি।

মক্রবপুর গ্রামের বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, নাঙ্গলকোট স্টিল সেতু থেকে মক্রবপুর পর্যন্ত কয়েকশ গর্ত। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যেতে হয়, কিন্তু এত কষ্ট হয় যে রোগীবাহী গাড়ির রোগীর অবস্থাও আরও খারাপ হয়ে যায়।

রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের ছুপুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলেন, মাহিনী-অলিপুর-জোড়পুকুরিয়া সড়কটি গত চার বছর ধরে বেহাল অবস্থায় আছে। ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য বরাদ্দে ইট-সুরকি ফেলে কিছুটা ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু টেকসই সংস্কার ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

নাঙ্গলকোট উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. অহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, মাহিনী-অলিপুর-জোড়পুকুরিয়া সড়কটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকল্পে প্রস্তাব করা হয়েছে। নাঙ্গলকোট-শ্রীফলিয়া-বাঙ্গড্ডা সড়কটি জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পে প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুত এস্টিমেট তৈরি করে কুমিল্লা এলজিইডি অফিসে পাঠানো হবে।

এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কেউ দায়িত্ব নেয় না। তারা দ্রুত সড়কগুলোর সংস্কার দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে আর কতদিন চলবে? চার বছর ধরে কষ্ট করছি। বর্ষা শেষ হয়েছে, এখনই যদি কাজ শুরু না হয়, তাহলে পরের বর্ষায় হয়তো সড়কগুলো একেবারেই অচল হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত