কুমিল্লায় হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই সালিশদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় বক্তারা দাবি করেন, সামাজিক বিরোধ মীমাংসায় অংশ নেওয়ার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের বক্সগঞ্জ বাজারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মামলার দুই আসামি হলেন বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং উপজেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি নুরনবী স্বপন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবিক’-এর সভাপতি ইলিয়াছ ফলোয়ান, বক্সগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন ইমন, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব কোম্পানি ও আজিয়ারা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল আহমেদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিজাম উদ্দিন সুমন, বিএনপি নেতা শাহ আলম, নেছার উদ্দিন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এসময় বক্তারা বলেন, বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে বিভিন্ন গ্রামের লোকজনকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও নুরনবী স্বপন ওই সালিশে অংশ নেন। পরে একটি পক্ষ তাঁদের হত্যা মামলার আসামি করে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। 

তাঁদের দাবি, সালিশে অংশ নেওয়া ছাড়া ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুই নেতার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবু তাঁদের দেড় মাস কারাভোগ করতে হয়েছে। তাই দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে নুরনবী স্বপন বলেন, ছোটবেলা থেকেই সামাজিক বিভিন্ন বিরোধ মীমাংসার কাজে যুক্ত আছি। আলিয়া গ্রামের হত্যাকাণ্ডের পর শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্দেশ্যে সালিশ বৈঠক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সালিশে অংশ নেওয়ার কারণেই একটি কুচক্রী মহল আমাদের হত্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, যদি সামাজিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসে এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ সালিশে অংশ নিতে আগ্রহী হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত