২০২৩ সালের আহমেদাবাদে পুরুষদের বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের স্বপ্নভঙ্গের নায়ক ছিলেন ট্রাভিস হেড। তাঁর ১৩৭ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস ভারতের বিপক্ষে এনে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা। দুই বছর পর, নারী বিশ্বকাপে যেন সেই কাহিনীই ফিরে এলো অন্য এক রূপে।
রবিবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বিশাখাপত্তনমে ভারতের দেওয়া ৩৩১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া নারী দল। আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি—খেলেছেন ১০৭ বলের ঝড়ো ১৪২ রানের ইনিংস (২১ চার, ৩ ছক্কা)।
এটি নারী ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া—এর আগে ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা ৩০২ রান তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতেছিল।
ভারত আগে ব্যাট করে ৪৮.৫ ওভারে তোলে ৩৩০ রান। ইনিংসের নায়ক ছিলেন দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা (৮০) ও প্রতীকা রাওয়াল (৭৫)। দুজনের উদ্বোধনী জুটি ছিল ১৫৫ রানের, যা ভারতের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা সূচনা। এই ম্যাচেই মান্ধানা পূর্ণ করেছেন নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০০০ রান, যা তাকে করেছে বিশ্বের দ্রুততম ও সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে এই মাইলফলকে পৌঁছানো খেলোয়াড়।
তবে ভারতের এমন দুর্দান্ত সূচনা ম্লান হয়ে যায় হিলির ব্যাটে। ইনিংসের শুরু থেকেই তিনি নিয়ন্ত্রণ নেন ম্যাচের, নিজের অসাধারণ রিস্টওয়ার্ক ও টাইমিংয়ে খেলেছেন একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শট। এক ওভারে ভারতীয় পেসার ক্রান্তি গৌড়কে মেরেছেন এক ছক্কা ও তিন চার—যেন ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন বোলারদের আত্মবিশ্বাস।
মাঝখানে শ্রী চরানির অসাধারণ স্পেল (১০ ওভারে ৩ উইকেট, ৪১ রান) কিছুটা ম্যাচে ফেরায় ভারতকে। কিন্তু হিলি তখন অপ্রতিরোধ্য। একদিকে অ্যাশলি গার্ডনারের (৪৫) সঙ্গে ৯৫ রানের জুটি, অন্যদিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিখুঁত শান্তিতে। ৩৫ বলে ফিফটি, আর পরে শতক ছুঁয়ে উদযাপন করেছেন নিঃশব্দে ব্যাট উঁচিয়ে—অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ সেন্চুরি
শেষদিকে হিলি আউট হলেও দায়িত্ব নেন এলিস পেরি, যিনি ইনজুরির পর ফিরে এসে ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচের শেষ কাজটি সম্পন্ন করেন। অস্ট্রেলিয়া জেতে ৭ উইকেটে, ৪৯তম ওভারে, এবং বিশ্বকাপ পয়েন্ট টেবিলে উঠে যায় শীর্ষে (৭ পয়েন্ট)।
ভারতের তৃতীয় অবস্থানে থাকা এখন তাদের সামনে কঠিন সমীকরণ। পরের ম্যাচে (১৩ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছাড়া বিকল্প নেই হারমানপ্রীত কৌরদের।
হংকংয়ে অনুশীলন মাঠ নিয়ে অসন্তোষ বাংলাদেশের