ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে শনিবার রাতটা ছিল পেনাল্টি মিসের। এক রাতেই পেনাল্টি মিস করেছেন চার তারকা ফুটবলার। পর্তুগালের জয়ের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। স্পেনও জয় পেয়েছে, তবে পেনাল্টি মিস করেন ফেরান তোরেস। একইভাবে ইতালির জয়ের রাতে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মাতেও রেতেগুই। আর নরওয়ের হয়ে এক পেনাল্টি দুবার মারার সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি আর্লিং হালান্ড। পরে অবশ্য তিনি হ্যাটট্রিক করেছেন।
নেশনস লিগ জেতা পর্তুগাল নিজেদের ছন্দ ধরে রেখেছে বিশ্বকাপ বাছাইয়েও। পর্তুগাল ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ডকে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে একমাত্র গোলটি করেছেন রুবেন নাভাস। তার আগে ৭২ মিনিটে আয়ারল্যান্ডের বক্সে ত্রিনকাওয়ের শট এক ডিফেন্ডারের হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। রোনালদোর মাঝ বরাবর নেওয়া শট আয়ারল্যান্ডের গোলকিপারের পায়ে লেগে প্রতিহত হয়। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে পেনাল্টিতে ৩৪তম মিস হলো রোনালদোর। সিআরসেভেন তার ক্যারিয়ারে ১৭৭ গোল করেন স্পটকিক থেকে। এফ গ্রুপে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম তিন ম্যাচের সব জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরেই থাকল পর্তুগাল।
পর্তুগালের মতো টানা তিন ম্যাচে জিতেছে স্পেনও। স্পেন ২-০ গোলে হারিয়েছে জর্জিয়াকে। স্পেনের হয়ে গোল করেছেন ইয়েরেমি পিনো ও মিকেল অরাইজাবাল। এই ম্যাচের ২৯ মিনিটে সুযোগ পেয়েও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ফেরান তোরেস। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার শীর্ষে স্পেন। সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে তুরস্ক; তারা ৬-১ গোলে হারিয়েছে বুলগেরিয়াকে। তুরস্কের হয়ে আর্দা গুলের একটি এবং কেনিন ইলদিজ দুটি গোল করেন।
গেল দুবার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি ইতালি। এবারও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইতালির জন্য প্রতি ম্যাচই এখন বাঁচামরার। ‘আই’ গ্রুপে ইতালি ৩-১ গোলে হারিয়েছে এস্তোনিয়াকে। আজ্জুরিদের জয়ে গোল করেছেন মইসে কিন, মাতেও রেতেগুই ও ফ্রান্সিসকো এস্পোসিতো। ম্যাচের ৩০ মিনিটে রেতেগুই পেনাল্টি মিস না করলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। এমন জয়ের পরও ইতালির জন্য বাকি ম্যাচগুলো বাঁচামরার নরওয়ের কারণে। গ্রুপে ৫ ম্যাচে ১২ পয়েন্টে দুইয়ে আছে ইতালি। একই গ্রুপে ৬ ম্যাচের সব জিতে ১৮ পয়েন্টে শীর্ষে নরওয়ে। অর্থাৎ শেষ তিন ম্যাচের প্রতিটিতে জেতার পাশাপাশি ইতালিকে অপেক্ষায় থাকতে হবে নরওয়ের হারেরও।
শনিবার রাতে নরওয়ে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ইসরায়েলকে। ম্যাচের ৬ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল আর্লিং হালান্ডের। কিন্তু হলান্ডের প্রথম প্রচেষ্টাটি রুখে দেন ইসরায়েলের গোলকিপার ড্যানিয়েল পেরেটজ। তবে পোলিশ রেফারি সাইমন মারচিনিয়াক নির্দেশ দেন পেনাল্টিটি আবার নেওয়ার, কারণ পেরেটজ আগেই গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারও হালান্ডকে রুখে দেন ইসরায়েল গোলকিপার। অবশ্য পেনাল্টি মিস করে দমেও যাননি হালান্ড। ম্যাচের ২৭, ৬৩ ও ৭২ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
