দেশকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা হচ্ছে

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৩ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন; কিন্তু এখন বাংলাদেশকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিভিন্ন রকমের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে জনগণ আরেকবার রায় দেবে যে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে অসাম্প্রদায়িক।

গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ খ্রিস্টান ফোরামের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের কাছে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের সমাজের রাষ্ট্রের জাতির আত্মা বা সোল। এই আত্মা ১৯৭১ সালে আমরা যে অসাম্প্রদায়িক একটা বাংলাদেশ নির্মাণ করার জন্য যুদ্ধ করেছি, আমাদের যে সোল আছে, এই সোলকে আমরা নষ্ট হতে দিতে চাই না। আজকে যেকোনোভাবেই হোক একটা প্রচেষ্টা আছে যে ভিন্নভাবে চিন্তাভাবনা করার, সেই ভিন্নভাবে চিন্তাভাবনা করার কোনো অবকাশ এখানে আছে বলে আমরা মনে করি। আমরা সবাই একটা জাতি এটাকে আলাদা করার সুযোগ নেই।’

আগামী নির্বাচনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আগামী নির্বাচনে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি আপনাদের পুরো সম্প্রদায়ে। আমরা মনে করি, জন গোমেজ শুধু আপনাদের প্রতিনিধি নন, তিনি আমাদের প্রার্থী। তিনি বিএনপির ভালো জায়গায় ছিলেন এবং আছেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের যে দাবি যেটা আপনারা আশা করেছেন দলীয় মনোনয়নের জন্য নিঃসন্দেহে আমি আপনাদের এই যে পত্রটি আমি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়ে দেব এবং সেটাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখব এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের যে প্রত্যাশা আপনাদের কাছে সবসময় থাকবে যে আপনারা একটু সবসময় পেছনে পড়ে থাকবেন কথা বলবেন না। আপনাদের দাবি-দাওয়া আপনাদের যে প্রয়োজন সে কথাগুলো আপনাদের জোরের সঙ্গে বলতে হবে। আপনারা কখনোই মনে করবেন না যে, আপনারা সংখ্যালঘু, সংখ্যালঘিষ্ট, আমরা ক্ষুদ্র এই কথাগুলো মনে করলে কিন্তু পিছিয়ে পড়তে হবে। আজকে যারা এখানে আছেন আপনারা সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সবাই এটা অর্জন করেছেন নিজের গুণাবলি দিয়ে, যোগ্যতা দিয়ে। আপনাদের প্রয়োজনগুলো জোরেই বলতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক রকম রাজনীতি হচ্ছে, অনেক রকম কথা হচ্ছে। আমরা আশা করেছিলাম যে, আমাদের যে অন্তর্বর্তী সরকার এগুলোর ঊর্ধ্বে উঠে তারা একটা নির্বাচন যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বাংলাদেশের জন্যে সেই সুষ্ঠু, অবাধ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। তারা চেষ্টা করছেন, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই আমরা এমন কতগুলো বিষয় দেখতে পাই যে বিষয়গুলো আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। আপনারা জানেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের জন্য কিছু কিছু জায়গায় সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে অনেকগুলো, সেই সংস্কার কমিশন তাদের মধ্যে আলোচনা শেষ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতামত নিয়ে তাদের আলোচনা শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ তারিখে আমরা সবাই আশা করছি, যেগুলোতে একমত হয়েছে সেগুলোতে সব দল স্বাক্ষর করবে এবং যেহেতু একমত হতে পারেনি সেগুলো আসন্ন নির্বাচনে সে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তাদের ম্যানিফেস্টো হিসেবে নিয়ে আসবে জনগণের সামনে, সেটাকে প্রস্তাব আকারে তারা তুলে ধরবে সেভাবেই তারা চিন্তা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যখন পিআরের বিষয়টা সামনে আসছে, তার জন্য আন্দোলন হচ্ছে তখন স্বাভাবিকভাবে আপনারা যারা অতিদ্রুত একটা নির্বাচন চান, দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য, গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করার জন্য, গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন করার জন্য, তারা আমরা উদ্বিগ্ন হই। সেজন্য আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি যে, এই বিষয়টা (পিআর) আগামী পার্লামেন্টের ওপরে ছেড়ে দিতে হবে। আগামী পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা যদি মনে করেন যে, এটা (বিদ্যমান  ভোট পদ্ধতি) থেকে পিআরে যাবে যাবে, জনগণ যদি মনে করে যে, পিআরে যাবে.. যাবে। কিন্তু এখন তো এটা সম্পর্কে কিছুই জানে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পিআর পদ্ধতির সমস্যা হচ্ছে ব্যক্তির যে স্বাধীনতা থাকে তার নির্বাচিত রিপ্রেজেন্টেটিভ চুজ করবার সেই স্বাধীনতাটা দলকেই চুজ করতে হয়। অর্থাৎ ওই দলকে ভোট দিতে হবে। দল রিপ্রেজেন্টেটিভ নমিনেশনের পরে তাদের পার্লামেন্টে আসার জন্য। এটার সঙ্গে আমাদের দ্বিমত। আমরা জানি, যে ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন জনগণ, তারা তাদের পছন্দ মতো ব্যক্তিকে ভোট দেবে সেটা দলের লোকই হবে। এই বিষয়গুলো আমি অবতারণা করলাম এইজন্য, এগুলো আমাদের সামনে আসছে।’

খ্রিস্টান ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আলবার্ট রোজারিওর সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ খ্রিস্টান ফোরামের অনিল লিও কস্তার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও, পিউস কস্তা, রীতা রোজলীন কস্তা, প্রতাপ আগাস্টিন গোমেজ, শংকর প্যাট্রিক কস্তা, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ নেতা বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক জন গোমেজ, রমেশ দত্ত, নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল বড়–য়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত